হাজার-হাজার পুরুষ নারী নির্যাতনের শিকার

man torcherবাংলাদেশে হাজার-হাজার পুরুষ নারী নির্যাতনের শিকার’- অভিযোগ করে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ‘পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে পুরুষ নির্যাতন দমন আইনসহ ২১ দফা দাবিতে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত পুরুষ সমাজের মানবাধিকার লঙ্গিত হচ্ছে। পুরুষরা বর্তমানে নারী সমাজের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থনৈতিক, মানসিক এমনকি শারীরিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন প্রকার হয়রানির শিকার হচ্ছে।

পুরুষ নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আইন না থাকায় আমরা কোনোভাবেই আইনি সহযোগিতা পাচ্ছি না। পুরুষ সমাজকে এ সমস্থ নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পুরুষ নির্যাতন দমন আইনসহ ২১ দফা দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি।’

মানববন্ধনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং যৌতুক আইনের অপব্যবহারের কারণে পুরুষরা হয়রানির শিকার হচ্ছে জানিয়ে তারা বলেন, ‘আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে ১৪ বছর এবং মারাত্মক জখম করলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রেখে ‘যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৭ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ আইন পাস হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মত এর অপব্যবহার হবে। তাই এ আইনের সংশোধন চাই।’

এসময় তাদের দাবি, ‘আমাদের সমাজে হাজার হাজার পুরুষ আছে যারা নারীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন কিন্তু আত্মসম্মানের জন্য অনেকেই তা প্রকাশ করেন না।’

মানববন্ধন শেষে এ সংগঠনের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এসময় তারা জানান, তারা নিজেরাও এর ভুক্তভোগি। এজন্য এ সংগঠন করে দাবি আদায়ে আন্দোলন করছেন তারা।

সংঠনের আহ্বায়ক শেখ খায়রুল আলম  জানান, তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তার বিয়েটা অনেকটা নাটকের মতই হয়েছে। বিয়ে করলেও নিজের বাড়িতে আনতে পারেননি স্ত্রীকে।

তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী এরকম ব্যবসা করে। এর আগেও বিয়ে করা ছাড়া আরেক জনের সাথে থেকেছে। আমি বিয়ে করার পর তাকে আমাদের বাড়িতে আনতে গেলে তার পরিবার আনতে দেয়নি। আমি আমার এলাকার মেম্বার, চেয়াম্যানের কাছে বলেছি, উনারাও ডেকেছে, কিন্তু তারা আসে না। আমার বাড়িতে না এসে আমার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেছে। মামলা করার পর আবার নারী নির্যাতনে মামলা করেছে।’

এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্ত্রী আমার হাত ভেঙ্গেও দিয়েছে। তাদের বাড়ি নারায়নগঞ্জে হলেও মানুষ খারাপ দেখে ঢাকায় ভাড়া থাকে, কারো কাছে ঠিকানা দেয় না। অথচ আদালতে আসে।’

একই জেলার মোঃ বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমি বিয়ে করেছি ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে। ঐ মাসের ২৩ তারিখে আমার নামে যৌতুক মামলা দিয়েছে আমার স্ত্রী। মামলা করে পুলিশ এনে রাতে আমাকে ধরে নিয়ে গেছে। ও এখন আমাকে ফোনে বলে, ৫০ হাজার বা ১ লক্ষ টাকা দিলে মামলা খালাস করে দিবে সেও আমার কাছ থেকে বিদায় হয়ে যাবে। এসব কথা বলার পরেও পরবর্তীতে আবারো পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে, আমি নাকি তাকে মারধর করেছি। অথচ আমি তাকে কিছুই করিনি।’

তিনি বলেন, ‘ওই অভিযোগের সত্যতা যাছাই করতে পুলিশ আসে এবং তদন্ত করে দেখে যে ঘটনাটা মিথ্যা। তখন অভিযোগ স্থগিত করে। এরপর সে আদালতে যেয়ে মামলা করেছে, তাকে নাকি আমি নির্যাতন করেছি, এই অভিযোগে। এটা সম্পুর্ণ মিথ্যা কথা।’

এসময় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখন আইন-আদালত সব নারীদের কথা শুনে। নারীরা যদি বলে আমাকে এই ছেলেটা এই কাজ করেছে, তখন আদালত এটার বিচার করে। কিন্তু সত্যটা কেউ যাচাই করে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, এই যৌতুক এবং নারী শিশু নির্যাতন মামলা তদন্ত সাপেক্ষে ওয়ারেন্ট বের করা হোক এবং মামলা নেয়া হোক। আমাদের পুরুষ সমাজের জন্য একটা মন্ত্রণালয় গঠন করা হোক। নারি ও শিশু মন্ত্রণালয় আছে, তারা আইনের সহযোগিতা পায়, কিন্তু আমরা পুরুষরা কোনোভাবেই সহযোগিতা পাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক নারী আছে, স্বামীকে রাতে খাট থেকে ফেলে দেয়। এরকম প্রমানও আছে। ‘অনেক পুরুষ আছে লজ্জার কারণে কাউকে এসব কথা বলে না।’
সংঠনটির যুগ্ন আহ্বায়ক নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও এর বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ শাহজালাল বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমি সৌদি আরবে ছিলাম ১৫ বছর। স্ত্রীর অনেক অযৌক্তিক অন্যয় দাবির মুখে আমি থাকতে পারিনি সেখানে, চলে আসি দেশে। আমার ২টা ছেলে-মেয়ে আছে। সআমার স্ত্রী আমার সাথে প্রতারণা করেছে, আমার টাকা পয়সা আত্মসাৎ করছে। আমি যা উপার্জন করেছি তা তাকে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সে আমার বিরুদ্ধে ৪টা মামলা দিয়েছে। মামলাগুলি দেয়ার কারণ হচ্ছে, আমি ১৫ বছর বিদেশে ছিলাম এবং বিদেশে থেকে কি করেছি সে হিসেব চায়। তাকে হিসেব দিতে পারি না বলে টাকা-পয়সা নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। এরপর তাকে আমি আনতে গেলেও সে আসে না। এরপর কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানসহ আমার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে অনেকবার আনতে গিয়েছি কিন্তু সে আসেনা। সে শর্ত দেয়, আমি ১৫ বছর বিদেশ থেকেছি, কত টাকা আছে তাকে দিতে হবে।

২ বাচ্ছার নামে ১০ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে। আমার বাবার যে বিল্ডিং আছে, সে বিল্ডিং অর্ধেকটা লিখে দিতে হবে। তার শর্ত পূরণ হলেই সে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সংসারের বড় ছেলে। মা-বাবা, ভাই-বোনসহ সবার প্রতি আমার দায়িত্ব ছিল। আমি ১৫ বছরের উপার্জনের টাকাতো জমা করে রাখিনি, সব খরচ হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ আমি তাকে উকিল নোটিশ দিয়েছি। তারপরও সে আসেনি। তারপর আমি তাকে ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) দিয়েছি। ডিভোর্স লেটার দেয়ার পর সে একেককরে ৪টা মামলা করেছে আমার বিরুদ্ধে। ৪ মামলায় আমাকে ৩ মাস জেলে কাটাতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলে গিয়ে আমি দেখলাম, নারায়ণগঞ্জ কারাগারে সবচেয়ে বেশী আসামি মাদকের, তারপরেই আছে যৌতুক, নারী নির্যাতন মামলার আসামি। এ সমস্থ নারীদের মিথ্যা মামলায় বিরাট একটা অংশ কারাগারে আছে। নারী নির্যাতন মামলার অপব্যবহার চরমভাবে হচ্ছে। এ সমস্থ মামলায় কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই সরাসরি কারাগারে দিয়ে দেয়। আমি এসব মামলার অপব্যবহার বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’