সাবধান! রাইডশেয়ারিংয়ে

rideউবার, পাঠাওসহ বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। অ্যাপে সাড়া দিয়ে পরে যাত্রা বাতিল এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও যাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও কম নয়। আছে অফলাইনে রাইড শেয়ারিংয়ের অভিযোগও।

বিআরটিএ এসব অভিযোগের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কারণ এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনই পায়নি রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ১১টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলেও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, রাইডশেয়ারিং নীতিমালা কার্যকরের পরও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিআরটিএর আওতায় আনা যায়নি। এর বড় কারণ, নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে না পারা। পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপ ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে যাত্রী ও চালকের তথ্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়নি এখনো।

এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরেও সম্প্রতি বৈঠক হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যাত্রী ও চালকের তথ্য পর্যবেক্ষণ সেবা কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যে চালু করতে প্রয়োজনীয় বাজেট ও লোকবল আপাতত নেই। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এর খরচ রাইডশেয়ারিং কোম্পানিগুলোই অনুপাতিক হারে নিজেরাই বহন করতে পারে।

কিন্তু নীতিমালায় বলা হয়েছে-সরাসরি এসব কাজে কারও কাছ থেকে খরচ নেওয়ার বিধান নেই। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব খরচে ৯৯৯ সেবা চালুর ব্যপারে বিআরটিএর নির্দেশনা জানতে চেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিচ্ছে বিআরটিএ।

নীতিমালা অনুযায়ী রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের অ্যাপে এসওএস বাটন অন্তর্ভুক্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ বাটনের মাধ্যমে গাড়ির চালক ও যাত্রীর তথ্য জিপিএস লোকেশনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে চলে যাবে। ফলে প্রতিটি যাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে পারবে পুলিশ।

যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তায় পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জরুরি বার্তা বা সংকেত পাঠানোরও সুযোগ থাকবে এ পদ্ধতিতে। অথচ রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তাদের অ্যাপে এসওএস বাটন অন্তর্ভুক্ত করেনি। এ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলো মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এর বিপরীতে দিনে ভাড়া বাবদ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে; কিন্তু অ্যাপভিত্তিক পরিবহনের আইনি বৈধতা না থাকায় সরকার এ খাত থেকে কিছুই পাচ্ছে না।

রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, এসওএস অ্যাপের জন্য তারা নিজেরা খরচ বহন করতে রাজি। তবু তারা একটি নীতিমালার আওতায় আসতে চায়। এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের বৈঠকের কার্যবিবরণী সংযুক্ত করে ব্যবস্থা নিতেও বিআরটিএকে সম্প্রতি অনুরোধ করেছে পাঠাও লিমিটেড।

এ বিষয়ে পাঠাও লিমিটেডের কর্মকর্তা মাহফুজ আহমেদ বলেন, আমাদের এখনো অনুমোদন মেলেনি। এ জন্য চিঠি চালাচালি চলছে। আর যাত্রীর পক্ষ থেকে অভিযোগ এলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের কর্তৃপক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তি করে। একই ইস্যুতে উবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার আরশাদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।