সন্তানের জন্য দুধ চুরি করা সেই বাবাকেই আবার চাকরি দিবে সুপার শপ ‘স্বপ্ন’

baba (3)

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি সুপার শপ থেকে দুধ চুরি করে পালাচ্ছিলেন এক বাবা।

চোর চোর বলে মারধর করছিলেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

সেখানে প্রকাশ পেলো আসল ঘটনা।

তিন মাস ধরে চাকরি না থাকায় সন্তানের ক্ষুধার যন্ত্রণা মেটাতে বাধ্য হয়ে সুপার শপ স্বপ্ন থেকে দুধ চুরি করেছিলেন এক বাবা।

baba (5)

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকে তা ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি নজরে আসে সুপার শপ স্বপ্নের।

এমন অবস্থায় আগামীকাল রোববার সকালে সেই বাবার ইন্টারভিউ নেবে স্বপ্ন। যোগ্য হলে চাকরি পাবেন তিনি।

শনিবার (১১ মে) সন্ধ্যায় স্বপ্নের হেড অব মার্কেটিং তানিম করিম এই তথ্য জানিয়েছেন।

sopno

তিনি বলেন, স্বপ্নের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসিরের নির্দেশে সেই বাবা এবং বাচ্চার দায়িত্ব নেবে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ।

আজ রাতে তার সঙ্গে দেখা করে রমজান মাসের জন্য যেসব নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দরকার তা তাকে দেয়া হবে।

আগামীকাল রোববার সকালে নির্বাহী পরিচালক নিজে তার ইন্টারভিউ নেবেন। তিনি চাকরির যোগ্য হলে তাকে চাকরি দেয়া হবে।

baba (6)

গত ১০ মে রাজধানীর বাকি সড়কে কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বাচ্চার জন্য বাবার দুধ চুরির মত হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা দেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

এর আগে এ বিষয়ে এসি জাহিদুল বলেন, ‘ঘটনাটি আমার কাছে খুবই স্পর্শকাতর লেগেছে।

police

নাম-পরিচয় রেখে তাকে ছেড়ে দেই। আমি যেটা করেছি মানুষ হিসেবে এমনটা করা খুবই স্বাভাবিক।

আমি জানি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ দুধের প্যাকেট চুরি করবে না।’

‘তিনি মালিবাগের হোসাফ টাওয়ারের একটি মোবাইলের দোকানে কাজ করত।

baba (4)

ইতোমধ্যে সেই ব্যক্তিকে সাহায্যের বিষয়ে অনেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

আজ (শনিবার) রাত ৮টায় তাকে আবারও আমার অফিসে ডেকেছি।

দেখি তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারি কি-না’-যোগ করেন তিনি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন পুলিশের খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জাহিদুল ইসলাম।

baba

শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় তার পোস্টটি।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল রাত আনুমানিক ৮.৪৫ মিনিট।

বাকি সড়কে চেকপোস্ট ডিউটি তদারকি করছিলাম। হঠাৎ এক জায়গায় মানুষের হট্টগোল দেখতে পেলাম।

ঘটনা কি তা দেখার জন্য আমার এক সাব-ইন্সপেক্টরকে পাঠালাম।

baba (2)

কিছুক্ষণ পর বেশ কিছু লোক ২৫-৩০ বছর বয়সী একজন লোককে টেনে-হিঁচড়ে আমার সামনে নিয়ে আসলো। ঘটনা জানতে চাইলাম।

একজন বলল, ‘স্যার, লোকটা চোর, চুরি করে পালাচ্ছিল।’ পাশে লোকটাকে শক্ত করে ধরে রাখা এক সিকিউরিটি গার্ড আমাকে বলল, ‘স্যার, লোকটা স্বপ্ন সুপার শপ থেকে চুরি করে পালাচ্ছিল।’

baba (9)

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি চুরি করেছে? সিকিউরিটি গার্ড বলল, ‘স্যার, সে এক প্যাকেট দুধ চুরি করে পালাচ্ছিল।’

আমার খটকা লাগল, আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘দুধ’? তখন সিকিউরিটি গার্ড অতি উৎসাহ নিয়ে বলল, ‘স্যার বাচ্চাদের ন্যান দুধের প্যাকেট।’

আমি লোকটার দিকে তাকালাম। আমার বয়সেরই হবে। দেখতে ভদ্রলোকই মনে হলো।

তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চুরি করলেন কেন? সে কেঁদে ফেলল। তারপর বলল, ‘স্যার, তিন মাস হলো চাকরি নাই, বেতন নাই। ঘরে ছোট বাচ্চা, দুধ কেনার টাকা নাই।’

সাথে সাথে আমার ছেলের চেহারা মনে পড়ল।

baba (7)

মনে হলো কতটা নিরুপায় হলে একজন বাবা এই কাজ করতে পারে। ওর জায়গায় আমি থাকলেও হয়ত একই কাজ করতাম।

সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করলাম, দুধের প্যাকেটের দাম কত? সে বলল, ৩৯০ টাকা স্যার। আমি তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিল রাখতে বললাম এবং লোকটিকে ছেড়ে দিতে বললাম।’