যে ডিজিটাল শাস্তি পাচ্ছেন সিএনজিচালকরা!

cngরাজধানী ঢাকায় গন্তব্যে পোঁছানোর জন্য একটা সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের করুণার ওপর নির্ভর করতে হতো সাধারণ যাত্রীদের। চাহিদামত গন্তব্যে না যাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, যাত্রীদের সাথে খারপ ব্যবহার একরকম অঘোষিত ‘নিয়ম’ হয়ে উঠেছিল অটোরিকশাচালকদের জন্য।

কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেছে চিত্রপট। যে অটোরিকশাচালকদের দাপটে রীতিমত নাস্তানাবুদ হতে হতো সাধারণ যাত্রীদের, সেই চালকরাই এখন যাত্রী না পেয়ে অসহায়। দিনের বেশিরভাগ সময়ই অলস সময় কাটছে তাদের। বাধ্য হয়ে এখন মিটারে চলছেন তারা। কিন্তু তাতেও মিলছে না প্রত্যাশিত যাত্রী। মূলত অ্যাপভিত্তিক ক্যাব সেবা উবার এবং বাইক শেয়ারিং সেবা পাঠাও জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরই কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা।
রীতিমত এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে উবার এবং পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন চালকরা।রাজধানীতে বেশ কয়েক বছর ধরে সিএনজি চালান এমন কয়েকজন চালকের সাথে কথা বললে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাদের অসহায়ত্ব।

রাজধানীর শ্যামলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল ১১টি সিএনজি। এগুলোর মধ্যের একটির চালক লিয়াকত হোসেন। রাজধানীতে ৯ বছর সিএনজি চালান। কিন্তু এমন যাত্রী খড়া সে কখনও দেখেনি। ‘মোবাইলেই নাকি এখন হোন্ডা আর গাড়ি পাওয়া যায়। তাই বাজার আর এখন আগের মতো নেই’, বলেন লিয়াকত।

২০ থেকে ২৫ দিন ধরে এ যাত্রী খরা চলছে বলে জানান তিনি। লিয়াকত বলেন, ‘আগে দিনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পকেটে থাকত। আর এখন জমার টাকাই অনেক দিন ওঠে না।’
মিটারে চলাচল করেন কি-না জানতে চাইলে উল্টো তিনি বলেন, ‘যাত্রীরাই অনেক সময় মিটারে যেতে চান না। যারা ভালো, তারা এমনিতেই মিটারের ভাড়ার সাথে বকশিস দেন।’

আসাদগেট থেকে উত্তরা যাবেন নাজমা বেগম। একটি অটোরিকশাকে প্রথম বলাতেই যেতে রাজি হলেন সেই চালক। মিটারে যাবেন কি-না জানতে চাইলেন নাজমা।
‘২০ টাকা বকসিস দিয়েন’, আবদার করলেন অটোরিকশাচালক। ‘না’ সূচক হাত নেড়ে সামনে যেতেই পেছন থেকে ডাক দিলেন ওই চালক।

গত দুই সপ্তাহ থেকে সিএনজি পাওয়া অনেকটা সহজ হয়ে গেছে বলে জানান নাজমা। তিনি বলেন, ‘এখন আর আগের মতো সিএনজি পাওয়ার জন্য কষ্ট করতে হয় না। আর না পাওয়া গেলেও সমস্যা নেই। হাতের মধ্যেই উবার আছে। তবে উবারে ভাড়া একটু বেশি। উবার জনপ্রিয় হওয়ার পর এর প্রভাব খুব ভালোভাাবেই সিএনজির ওপর পড়তে শুরু করেছে। বলা যায় তারা একরকম ডিজিটাল শাস্তি পাচ্ছে।’

বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে বলে জানান আরেক অটোরিকশাচালক বেলায়েত। ‘ঢাকায় ৮ বছর ধরে সিএনজি চালাই। কিন্তু এমন অবস্থার মধ্যে কখনোই পড়তে হয়নি। গত একমাসে ২০ দিনই ভাড়ার টাকা ওঠেনি’, বলেন বেলায়েত। এ অবস্থার জন্য তিনি দায়ী করেন উবার ও পাঠাওকে।