যে কারনে রাজধানীতে বাড়ছে পুরুষ পতিতার সংখ্যা

potita১৫ মার্চ,মগবাজার মোড় থেকে কিছুটা সামনে রাস্তাটা বাঁক নিয়ে সিদ্ধেশ্বরীর দিকে গেছে। একটি স্মার্ট ছেলেকে এমন ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়যায় যেন সে কারও অপেক্ষায় আছে। সাংবাদিকতা করি বলেই হয়তো অনেক কিছুই এড়িয়ে যেতে পারিনা। খবরের সন্ধানে ব্যপ্ত থাকি অহর্নীশি।কিছুটা দুরে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং লক্ষ্য করতে থাকলাম। ছেলেটির পরনে নেভী ব্লু প্যান্ট, সাদা গেঞ্জি, কাঁধে একটি ব্যাগ। তার শরীর থেকে ভেসে আসছিল উগ্র পারফিউমের ঘ্রাণ। বারকয়েক কথা বললো মোবাইলফোনে। সময় তখন রাত ৯ টা প্রায়। দেখেই মনে হয়েছিল নির্ধারিত কারো জন্য অপেক্ষা করছিল সে।

কিছুক্ষন পরেই একটি ব্লু কালারের গাড়ি এসে দাঁড়ালো। গাড়ির গ্লাস নামিয়ে এক মধ্য বয়সী নারী যুবকটিকে ডাকলেন হাতের ঈশারায়। মুচকি হেসে ছেলেটি এগিয়ে যায়। তারপর আস্তে আস্তে কথা হয় তাদের।স্পষ্ট বোঝা যায় যে,দরকষাকষি চলছে কিছু নিয়ে।অতঃপর যুবকটি গাড়িতে উঠতেই গাড়িটি সামনের দিকে যায়।

এ জগতে মেইল এস্কর্ট, এস্কর্ট বয় বা রেন্ট বয় হিসেবে পরিচিত অনেক ছেলে সাধারনত সবাই বলে পুরুষ পতিতা।তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় এরকম অনেক পুরুষ পতিতা রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হয়তো এই ছেলেটি।

অপর একজন জানালেন লেখাপড়ার পাশপাশি ফরেনারদের গাইড হিসেবে কাজ করতো সে।

পুরুষ বেশ্যাবৃত্তির এই ধারনা সে পেয়েছিলো এক বিদেশিনীর মাধ্যমে। ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলেন সেই নারী। গুলশানের একটি হোটেলে ছিলেন। ওই নারীর গাইড হিসেবে কাজ করার দ্বিতীয় দিনই তাকে বিছানায় সঙ্গ দিতে প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে তাকে পে করা হবে। তখন আমেরিকান ওই নারীর প্রস্তাবে রাজি হয়ে বেশ কিছু বাড়তি টাকা আয় করেছিলো ছেলেটি। শারীরিক ভাবে ভীষন তৃপ্ত হয়ে সেই নারী তাকে পরামর্শ দেন মেইল এস্কর্ট হিসেবে কাজ করলে ভালো উপার্জন করবে সে। সেই থেকেই এই পথে যাত্রা শুরু তার।
আমাদের দেশে একটা শ্রেণি রয়েছে যাদের লাইফ স্টাইল বিদেশীদের মতোই। জানা যায়, ওই শ্রেণির কাছে ওয়েব সাইট তৈরি করে নিজেদের প্রচার করতে শুরু করে এই ছেলেরা।পরবর্তীকালে খোঁজ পান মেসেঞ্জার পাবলিক ডটকমের। সেখানে অনেক মেইল ইস্কর্ট রয়েছে । অ্যাকাউন্ট ওপেন করেন সেখানে। ওই সাইটে গিয়ে দেখা গেছে এতে তার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। যা দেখলে সহজে তার সম্পর্কে অনুমান করা যায়।তাদের উচ্চতা,বয়স, কি কি ভাষায় দক্ষ সব তথ্য দেয়া থাকে।সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়,অভিজ্ঞতা অনুসারে গোপনীয়তা, নিরাপদ সম্পর্ক, প্রকৃত তৃপ্তি দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।শুধু প্রকৃত ক্লায়েন্টকে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করে ফোন নম্বর ও মেইলের ঠিকানা দেয়া থাকে সেখানে।

জানা যায়, এই ছেলেদের খদ্দের মূলত অভিজাত শ্রেণির ও বিদেশীনি কিছু নারী। দেশি অভিজাত নারীদের অনেকের স্বামী নেই। ডিভোর্সি অথবা বিধবা। নিঃসঙ্গ বোধ করেন। তারা পুরুষ পতিতা খুঁজেন। গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও ধানমন্ডি এলাকায় এরকম অনেক ক্লায়েন্ট রয়েছে বলে জানা যায়। অনেক নারী শুধু শরীর ম্যাসেজ করার জন্যেও এদের ডাকেন। এসব কাজে ঘণ্টা হিসেবে টাকা নেয়া হয় । প্রতি ঘন্টায় ২০ থেকে ৪০ ডলার বা ২হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা নেয়া হয় ।

জানা গেছে,নারীরা সাধারণত সুঠামদেহী, শ্যামলা, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ছেলেদের বেশি পছন্দ করেন। এজন্য ছেলেগুলো নিয়মিত ব্যায়াম করে নিজেকে প্রস্তুত রাখে। সুস্থ ও শক্তিশালী থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার খায়। জেন্টস পার্লারে যায় নিয়মিত। তবে পুরুষ পতিতাদের অনেকেই প্রতারণা করেন নারীদের সঙ্গে। তাদের একজনকে গ্রেপ্তার করেছিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তার নাম ফুয়াদ বিন সুলতান। তাকে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। র‌্যাব জানিয়েছে, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করে। তার সঙ্গে অন্তত দেড় শতাধিক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পাওয়া গেছে। নিজেকে সুলতান অব সেক্স দাবি করে সে দাবি করেছে, নারীরা তার কাছে স্বেচ্ছায় আসতেন। তবে র‌্যাব দাবি করেছে, শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে নারীদের ব্ল্যাকমেইল করতো সুলতান। ফুয়াদ বিন সুলতান সাবেক এক উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান।

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি সমাজের চরম অবক্ষয়। সমাজে আইন রয়েছে। ধর্ম রয়েছে। যেখানে নিয়ম-নীতির মধ্য দিয়ে জীবন পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলার জন্যই এসব নিয়ম। শারীরিক চাহিদার জন্য বৈধ পথেই হাঁটতে হবে। নতুবা এই সভ্যতা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। পরিবার প্রথা, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা বিলীন হলে নানা অসঙ্গতি সৃষ্টি হবে। বাইরের দেশের অপসংস্কৃতি কোনোভাবেই অনুসরণ করা যাবে না। এজন্য সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া অত্যাবশ্যক।