যে কারনে ঈদের পরই ভাঙছে বিএনপি!

bnpবেগম জিয়ার মুক্তি নয় বরং বিএনপি নেতারা এখন নির্বাচনে যাবার জন্য ব্যক্তিগত তদবির নিয়ে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করছেন। আগামী ঈদের পরই বিএনপি ভাঙছে বলে জানিয়েছে দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র।

এদিকে, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নির্বাচনে যাবার জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দিয়েছেন দুই শর্ত। বিএনপি নেতাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বিএনপির আন্দোলন এবং বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতারাই এখন উপযাচক হয়ে সরকারের কাছে তদবিরে যাচ্ছেন। তদবিরে তারা বলছেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই তাঁরা নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত, কিন্তু…।

এই কিন্তুর পর তারা যে শর্তগুলো দিচ্ছেন তা একান্তই ব্যক্তিগত। যেমন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সরকারের দুজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বলেছেন, ‘নির্বাচনে যেতে আমি প্রস্তুত। আমি দলের বেশির ভাগ নেতাকে নিয়েই নির্বাচনে যেতে পারি, যদি আমাকে গুলশানের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়, আমার নোয়াখালীর আসনটিই দেওয়া হয় এবং আমার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়।’ ওই দুই মন্ত্রীই বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা কথা বলবেন।

বিএনপির আরেক নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁর শর্ত দুটি। এক. তার মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দুই. তাঁর এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ১২জনকে নির্বাচনে জয়ী করতে হবে।

মির্জা ফখরুল আলমগীরের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ এখন গোপন কিছু নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই তাঁর কথা বার্তা হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন।

তবে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে গুলো বলছে, মির্জা ফখরুলই সম্ভবত একমাত্র নেতা যিনি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তদবির করেন না বরং নেতাকর্মীদের মুক্তি, মামলা এসব নিয়েই তিনি দেন-দরবার করেন। তাঁর উদ্যোগেই এক মাসের ব্যবধানে গয়েশ্বয় চন্দ্র রায়, আমান উল্লাহ আমান জেল থেকে মুক্তি পান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চান অখণ্ড বিএনপি নিয়ে নির্বাচনে যেতে। এজন্যই তিনি, বেগম জিয়াকে নির্বাচন পর্যন্ত দেশের বাইরে রাখার প্রস্তাব দিয়ে ছিলেন। সরকার ওই সমঝোতা প্রস্তাবে প্রথমে রাজি হলেও পরে পিছিয়ে যায়।

সরকারের একটি সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুল যেভাবে বিএনপিকে নির্বাচন নিয়ে যেতে চান তা ঝুঁকিপূর্ণ। বেগম জিয়াকে ফেলে রেখে বা দেশের বাইরে পাঠিয়ে অখণ্ড বিএনপি নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খালেদা জিয়াকে ছাড়াও নির্বাচনে গেলে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ভালো ফলাফল করতে পারে এমন আশঙ্কা সরকারের।

এ কারণেই সরকার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ শিথিল করে দিয়েছে। সরকার এখন বিএনপিতে লোভী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সবকিছুই করতে পারেন।

একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে বিএনপি ভাঙবেই। খণ্ডিত বিএনপিকে নিয়েই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এখন দেখার খণ্ডিত বিএনপিতে কারা থাকবেন?- ভোরেরপাতা