যে কারনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মোহাম্মদ আলী

mohammod ali৬৩ বছর আগের কথা। ১৯৬৪ সালে খ্রিষ্ঠান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কিংবদন্তী বক্সার মোহাম্মদ আলী। এর আগেও তাঁর ইসলাম গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন খবর প্রচার হলেও অবশেষে বের হলো মোহাম্মদ আলীর ইসলাম গ্রহণের প্রকৃত কারণ। যেটা প্রকাশ করেছেন তাঁর স্ত্রী বেলিন্ডা। যা এতদিন অজানাই ছিল। প্রমাণ হিসেবে তিনি মোহাম্মদ আলীর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে লেখা সে সময়কার কয়েক পাতার একটি চিঠিও প্রকাশ করেছেন।

বেলিন্ডার ভাষ্য থেকে জানা যায়, আলী এক সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন। এমন ভাব করছিলেন যে নিজেকে সর্বশক্তিমান ভাবতে শুরু করলেন। তখন বেলিন্ডা তাকে বলেন, তুমি হয়তো নিজেকে সবচেয়ে মহান বা শক্তিশালী বলতে পারো। কিন্তু তুমি কখনোই সর্বশক্তিমান আল্লাহর চেয়ে শক্তিশালী ও মহান নও। আর কোনোদিন তা হতেও পারবে না।

এরপর বেলিন্ডা আলীকে বললেন, তিনি কেন মুসলমান হয়েছেন তা কাগজে লেখার জন্য। আলীও বাধ্য ছেলের মতো এক তা কাগজ ও একটি নীল কলম নিয়ে লিখতে বসে গেলেন।

আলীর ওই চিঠিটি তার স্ত্রী বেলিন্ডা- পরে যার নাম হয় খলিলাহ ক্যামাচো-আলী, তার কাছ থেকে আবিষ্কার করেছেন তার জীবনীকার জোনাথান ইগ। জোনাথান ইগ ‘আলী’ নামে মোহাম্মদ আলীর একটি জীবনীও লিখছেন।

চিঠিতে আলী লেখেন, একদিন তিনি রোলার স্কেটিং রিঙ্ক চালিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি কালো ব্লেজার স্যুট পরা একজনকে ন্যাশন অফ ইসলামের জন্য পত্রিকা বিক্রি করতে দেখেন। আলী ন্যাশন অফ ইসলাম এবং তার নেতা এলিজা মোহাম্মদের নাম আগেও শুনেছেন। কিন্তু কখনোই ওই গ্রুপে যোগ দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করেননি। ওই গ্রুপটি কৃষ্ণাঙ্গদের বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং আত্ম-উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা চালাতো।

আলী একটি পত্রিকা উদাসীনভাবেই হাতে তুলে নিলেন। পত্রিকার একটি কার্টুন ছবিতে তাঁর দৃষ্টি আটকে গেল। যাতে একজন শেতাঙ্গ মালিককে তার কৃষ্ণাঙ্গ দাসকে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে। ওই কৃষ্ণাঙ্গকে যিশু খ্রিস্টের উপাসনা করতে বলা হচ্ছে। ছবিটির বার্তা ছিল শেতাঙ্গরা জোর করে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর খ্রিস্টান ধর্মকে চাপিয়ে দিচ্ছে।

আলী লেখেন, ওই কার্টুনটি আমার পছন্দ হয়। এটি আমার ওপর এক ধরণের প্রভাব ফেলে। আমার কাছে সেটি অর্থপূর্ণ মনে হয়। ওই কার্টুন তাকে সচেতন করে তোলে। এবং তিনি বুঝতে পারেন তিনি স্বেচ্ছায় খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেননি। তিনি নিজে তার নাম ক্যাসিয়াস ক্লে রাখেননি। তাহলে কেন তাকে ওই দাসত্বের চিহ্নগুলো বহন করতে হবে? আর তিনি যদি তাঁর ধর্ম এবং নাম না বহন করতে চান তাহলে কী পরিবর্তন তিনি আনতে পারেন?

১৯৬৪ সালে বক্সিংয়ে হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর আল জনসম্মুখে ঘোষণা করেন তিনি নিজে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীন। তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহ এবং শান্তিতে বিশ্বাস করি।

আমি শ্বেতাঙ্গদের এলাকায় প্রবেশ করতে চেষ্টা করি না। আমি কোনো শেতাঙ্গ নারীকে বিয়ে করতে চাই না। আমার বয়স যখন মাত্র ১২ ছিল তখনই আমাকে খ্রিস্টান বানানো হয়। কিন্তু তখন আমি বুঝতে পারিনি আমি কী করছি। আমি এখন আর খ্রিস্টান নই। আমি জানি আমি কোথায় যাচ্ছি। আমি সত্য কী তা জানি। তোমরা আমাকে যা বানাতে চাও আমাকে তা হতে হবে না। আমি যা হতে চাই সে ব্যাপারে আমি আজ মুক্ত। ’

এলিজা মোহাম্মদ মারা যাওয়ার পর ন্যাশন অফ ইসলাম নিজেকে পুনর্গঠন করে। তখন আলী ইসলামের মৌলিক মতবাদ আঁকড়ে ধরেন এবং কোরআন পড়েন। বক্সিং ছাড়ার পর তিনি তার ভক্তদের ডেকে ধর্মীয় আলোচনা করতেন। তিনি কোরআন ও বাইবেলের মধ্যে তুলনা করতেন। আলী বলতেন বক্সিংয়ের জন্য আল্লাহ তার ব্যাপারে ভাবিত নন। বরং তিনি ভালো মানুষ ছিলেন কিনা এবং বিশ্বাসী হওয়ার কারণে তার ওপর যেসব দায়-দায়িত্ব এসে পড়েছে সেসব পালন করেছেন কিনা সে ব্যাপারেই শুধু আল্লাহ ভাবিত।