যেভাবে পছন্দের কলেজে ভর্তি হবেন

11ভর্তিতে শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম ও যোগ্যতা (এসএসসি ও সমমানের ফল) অনুযায়ী শিক্ষা বোর্ড থেকে একটি কলেজ ঠিক করে দেওয়ার নিয়মে আগামী ১৩ তারিখ রোববার থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নীতিমালা মেনে এই ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে ৩০ শে জুন পর্যন্ত। পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে শুরু হবে একাদশ শ্রেণীর ক্লাস।

প্রথমে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির পর অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার কোটায় ভর্তি করা হবে। মেধা তালিকায় নির্বাচিত হওয়ার পরও ভর্তি নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনের পর নির্ধারিত সময়ে যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল (তালিকা) প্রকাশ করা হবে। এরপর ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীই কলেজে ভর্তির নিশ্চয়তার কথা জানাবে, যা আগে করত কলেজ। এরপর হবে নিশ্চয়তার (নিশ্চয়ন) কাজ। এরপর অন্য কলেজে যাওয়ার (মাইগ্রেশন) আবেদন বা অপশনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। একই সময়ে দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীরা দু’টি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবেন। এক- এসএমএসের মাধ্যমে এবং দুই- ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

(১) এসএমএসের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন

প্রথম ধাপ: মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে যেতে হবে

দ্বিতীয় ধাপ: এরপর CAD <স্পেস> কলেজ EIIN <স্পেস> ভর্তিচ্ছুক গ্রুপের প্রথম লেটার লিখুন <স্পেস> আপনার বোর্ডের প্রথম 3 টি অক্ষর <স্পেস> এসএসসি রোল নম্বর <স্পেস> এসএসসি/সমমানের পরীক্ষার পাসের বছর<পছন্দের শিফট> Shift <স্পেস> ভার্সন <স্পেস> কোটা পাঠিয়ে 16222 তে পাঠিয়ে দিন।

তৃতীয় ধাপ: পরে আবেদনকারী PIN নম্বরসহ ফিরতি এসএমএস পাবেন। এরপর আপনাকে পেমেন্ট সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে ফিরতি এসএমএসে।

চতুর্থ ধাপ: আপনার টেলিটক নাম্বারে নির্দিষ্ট পরিমানের বেশি টাকা রিচার্জ করুন এবং এসএমএস লিখুন:

CAD <স্পেস> YES <স্পেস> PIN নম্বর <স্পেস> যোগাযোগের মুঠোফোন নাম্বার এবং 16222 তে পাঠান।

পঞ্চম ধাপ: আপনার মোবাইলে ফিরতি এসএমএস পাবেন, যেখানে প্রার্থীর নাম এবং ট্র্যাক নাম্বার উল্লেখ থাকবে।

(২) অনলাইনের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন

অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে হবে। আর এসএমএসের (খুদে বার্তা) মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর একজন শিক্ষার্থী যতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করবে, তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

অনলাইনের জন্য www.xiclassadmission.gov.bd ঠিকানায় এবং টেলিটকে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

এসএমএসে আবেদন ফি জমা দেয়ার পরে শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব পিন কোড সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য এই পিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে যদি ওই কলেজের কোন শিফট না থাকে তবে “N” লিখতে হবে, এছাড়া আপনি যদি কোন কোটায় না পরেন তবে এসএমএসে কোটা টাইপ করার প্রয়োজন নেই, ফাঁকা রাখতে হবে।

সকল বোর্ডের প্রথম তিনটি অক্ষর: ঢাকা বোর্ড = DHA, কুমিল্লা বোর্ড = COM, রাজশাহী বোর্ড = RAJ, যশোর বোর্ড = JES, চট্টগ্রাম বোর্ড = CHI, বরিশাল বোর্ড = BAR, সিলেট বোর্ড = SYL, মাদ্রাসা বোর্ড = MAD, দিনাজপুর বোর্ড = DIN

গ্রুপ শর্ট কোড: S–সায়েন্স, B–বিজনেস স্টাডিজ, H–হিউম্যানিটিস,

সংস্করণ/মাধ্যম সংক্ষিপ্ত কোড: B – বাংলা, E – ইংরেজী

শিফট শর্ট কোড: M – মর্নিং Shift, D – ডে শিফট, E – সান্ধ্য Shift, N – যদি কোনও Shift না থাকে

কোটার সংক্ষিপ্ত কোড: FQ- মুক্তিযোদ্ধা কোটা, EQ- শিশু কোটা, SQ- বিশেষ কোটা

২০১৭ সালে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীদের ৮৯ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হয় এবং ১১ শতাংশ কোটায় ভর্তি করা হয়। কিন্তু এই বছর একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি ১০০ শতাংশ মেধার উপর ভিত্তি করে করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ শতাংশ, বিভাগীয় ও জেলা সদর দফতরের ৩ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপবিভাগীয় পদ ২ শতাংশ, বিকেএসপি ০.৫ শতাংশ এবং প্রবাসী ০.৫ শতাংশ। কিন্তু এই কোটায় কোনও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে এই আসনে কাউকে ভর্তি করানো যাবে না।

এখন থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটান এলাকায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এইচ এস সি ভর্তি জন্য ৫ হাজার টাকা, এছাড়া ঢাকার আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯ হাজার টাকা (বাংলা মাধ্যম) এবং ১০ হাজার টাকা (ইংরেজি মাধ্যম) ভর্তি ফি জমা দিতে হবে। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি হতে পারবে না। প্রতিটি সেক্টরে অর্থ গ্রহণের সময় অবশ্যই রিসিভ স্লিপ দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ঢাকা পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি ১ হাজার টাকা, পৌর সদর দফতর ২ হাজার টাকা, ঢাকার বাইরে অন্যান্য মেট্রোপলিটান এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি হতে পারবে না বলেও নীতি মালায় উল্লেখ রয়েছে।