যেভাবে কপাল খুলছে নিবন্ধন শিক্ষকদের

ntrcaআল্লাহ চাইলে দেড় দুই মাসের ভেতরে নিয়োগ হতে পারে। বিভিন্ন সূত্রে জুলাই মাসে ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে। আশা করছি অসহায় নিবন্ধন শিক্ষকদের নতুন একটা সকাল হবে, নতুন একটা জীবন হবে।

এতোদিন Ntrca ভুলের কারনে অনেক ক্ষতি হয়েছে। Ntrca ২০০৫ ইং সালে কিছু আইন ও পরিপত্র নিয়ে গঠিত হয়েছিল সেখানে শুধু পরীক্ষা নেওয়া ও সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ না। কাজ হলো বছরের একটা মাসে স্কুল কলেজ থেকে চাহিদা নিবে তা জেলা থেকে Ntrca-তে যাবে। পরে পেপার পত্রিকা ও ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে হবে। এরপর পরীক্ষা নিতে পারবে।

শূন্য পদ সাপেক্ষে ও পরীক্ষায় শূন্য পদের বেশি ২০% বেশি টেকাতে পারবে। সেক্ষেত্রে সবার নিয়োগ হবার পর যদি কেউ মারা যায়, বিদেশে চলে যায়, কেউ অন্য চাকরি চলে গেলে, কোন কারণে কেউ যোগদান না করলে এই ২০% থেকে নেবে। এতে সবাই চাকরি পেয়ে যেতো।

কিন্তু তারা কিছুই করে নাই। কিন্তু তারা আইন না মেনে প্রতি বছর পরীক্ষা নিয়ে কোটি টাকা খেয়েছে। নিবন্ধিতদের স্বপ্ন জীবন্ত কবর দিয়েছে। আর জাল সনদে ভরিয়ে দিয়েছে। ২০১৬ সালে যে নিয়োগ দিয়েছিল তাতে দুর্নীতি ও বৈষম্য ছিলো। দুর্নীতি ও অনিয়ম সত্যি কষ্টের ছিলো আমাদের জন্য। তাছাড়া কমিটি যে আগে নিয়োগ দিতো তাতে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি করে নিয়োগ হতো।

তাও আবার ছিলো আইন বহির্ভূত নিয়োগ। এখন ১-১২ তম ও ১৩, ১৪ তম হাজারও নিবন্ধন প্রার্থী থাকতে নতুন পরীক্ষা নেওয়া প্রহসন হবে । শূন্য পোস্ট না থাকলে পরীক্ষা কেন? আমি নির্বাক নিস্তব্ধ বাকরুদ্ধ। আগে ১-১৪ তম শিক্ষকদের চাকরি নিশ্চিত করুন তারপর প্রতিদিন পরীক্ষা নেন কোন আপত্তি নেই।

রায়ে বলা আছে ১-১২ তম সমাধান না করে পরবর্তী পরীক্ষা নেওয়া অযৌক্তিক। Ntrca -এর ২০০৫ সালের আইনে ৮(ঘ), ১০(২), ও সনদপত্রে আছে He is Eligible to be Appointed।

২০০৬ সালে ৯(২), ২০১৫ ইং সালে ৫(২) আইন চাকরির কথা বলে। সংবিধান আইন ২৭, ২৮(১), ২৯(১),৩১,৪০,৪২ যোগ্যদের চাকরির কথা বলে। ১৯৮১ সালের আইন ফলো করলে সকলের এক বছরে চাকরি হয়ে যাবে। ২০১৮ সালের আইন অনুসরণ করলেও সবার চাকরি হবে। এই নীতিমালায় সোয়া লক্ষ পদের কথা আছে।

হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী চাকরি হতে কোন বাধা নেই। ১৪/১২/১৭ তারিখে রায় হয়। লিখিত প্রকাশ ০৩/০৪/১৮। সর্বশেষ ১৮/০৪/১৮ তরিখে Ntrca অফিসে যায়। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী চাকরি হবে ইনশাআল্লাহ।

যদি ৬০০০০ হাজার জাল সনদপত্র বাদ যেতো, সঠিক শূন্য পোস্ট দৃশ্য মান হতো তাহলে দুই এক বছরে সবার চাকরি নিশ্চিত হতো। রিটকারি আছে ২০,০০০ হাজার মতো, রিটকারির আগে হতে পারে নিয়োগ। শূন্য পোস্ট আছে ৪৪,০০০ ও সঠিক তথ্য আসলে এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই সবার হতে পারে নিয়োগ। Ntrca আইন, পরিপত্র, সংবিধান আইন, হাইকোর্টর রায় অনুযায়ী চাকরি সকলের মৌলিক ও মানবিক অধিকার। সরকার ইচ্ছা করলে সকলের চাকরি সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস। আমি বিশ্বাস করি ১-১৪ তম সবার চাকরি নিশ্চিত করবে Ntrca। কারণ সবাই নিবন্ধন পাস করে যোগ্যতা অর্জন করেছে। পরবর্তীতে যারা সার্টিফিকেট পাবে তাদেরও চাকরি নিশ্চিত করা Ntrca সাংবিধানিক দায়িত্ব।

দীর্ঘ দুই তিন বছর রিট জগতে একটা চাকরির জন্য অনেক আইনি সংগ্রাম, আন্দোলন, অনশন করেছি। যেটা অন্যায় মনে হয়েছে প্রতিবাদ করেছি। এখন আমি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, অবসন্ন, ভগ্ন হৃদয়। সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি এক আহত হ্নদয় তাই ভগ্ন হৃদয়ের কষ্ট উপলব্ধি করেছি। কেউ আমার কথায়, লেখায়, ব্যবহারে কষ্ট পেলে ক্ষমা চাচ্ছি। Ntrca বিষয়ে আমি বড়ই ক্লান্ত, মুক্তি পেতে চাই।

১-১৪ তম সবার চাকরি হোক, সবাই সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকুন, দেশকে ভালোবাসুন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপ্লব করুন। সোনার বাংলা গড়তে সৎ নিয়ত করুন। আর্দশ শিক্ষক হয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল দুর্নীতি প্রতিহত করুন। নিজেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে শিক্ষকের আর্দশ বিসর্জন দিবেন না। শিক্ষকতা এক মহান পবিত্র পেশা। সবার শুভ কামনা।

লেখক: নিবন্ধিত শিক্ষক।