মোবাইল ফোন ধরলেও ১০, করলেও ১০

pmআজ যারা মোবাইল ফোনে এক টাকা- দুইটাকায় কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। একসময় তাদের এই সুযোগ ছিল না। কারও সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে হলে ফোন ধরলেও ১০ টাকা, করলেও ১০ টাকা ছিল। আমার নিজের সেই অভিজ্ঞতা আছে। জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার গণভবনে নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল বা এমএনপি সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির একজন মন্ত্রী প্রথম মোবাইল ফোনের কোম্পানি খুলেছিলেন। ওই সময় উনি আমাকে একটি ফোন উপহার দেন। মোবাইল ফোনটির আয়তন ও ব্যাটারির আকার ছিল তুলনামূলক অনেক বড়। আপনি যদি ফোন করেন তবে প্রতি মিনিট ১০ টাকা দিতে হবে। আর সেই যুগে ১০ টাকা কিন্তু কম না। একদিনের বাজার হয়ে যেতো। আবার যদি ফোন ধরেন তাহলেও ১০ টাকা। ‘তখন আমি তাকে ফোনটি ফেরত দিয়ে বললাম ভাই ধরলেও ১০ করলেও ১০।এটা আমার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।এটা আমি পারবো না।’

শেখ হাসিনা বলেন, এই ছিল আমাদের দেশের অবস্থা। আমি আশা করি, আজকে যারা মোবাইল ফোন এক টাকা, দুই টাকা, তিন টাকা করে ব্যবহার করেন, তারা নিশ্চয় এই কাহিনিটা জানেন না। তাদের জানা উচিত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জানা উচিত।

তিনি বলেন, তরুণরা তাদের বাপদাদাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন। তাদের ইতিহাসটাও জানা দরকার। আমরা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কিন্ত মোবাইল ফোনে কথা বলার এই সুযোগ করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে আমরা এনালগ, মনোলগ থেকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই পরিবর্তনটা হয়েছে জনগণ, তরুণ সমাজের ভোটের কারণে। আওয়ামী লীগকে জয়ী করার কারণে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ কিন্তু এটা বুঝতে পেরেছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে; পরিবর্তন হবে। আমি তরুণ সমাজের জন্য সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি খাতও উম্মুক্ত করে দিয়েছি। গত ১০ বছরে কর্মসংস্থান ব্যাপকহারে আমরা করে দিয়েছি- সেটা দেশের জন্য অনেক বড় সাফল্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ এর আগে বিএনপি সরকারের সময় কেউ মোবাইল, কম্পিউটার সেবা পায়নি। আমাদের বাংলাদেশের জন্য ওই সাবমেরিনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু বিএনপি সরকার তা নাকোচ করে দেয়। তারা বলেছিল, বাংলাদেশ সাবমেরিনের সঙ্গে যুক্ত হলে নাকি সব গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এখন আমরা নিজেরাই ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি করছি। এই শিল্প আরও সম্প্রসারণ হলে তরুণদের আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এজন্য যে ২৮টি হাইটেক পার্ক করা হচ্ছে, তা অবদান রাখবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তরুণদের আর পরমুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকতে হবে না। আমরা এক অ্যাপসের মাধ্যমে ৯টি ভাষা শেখার ব্যবস্থা করছি। এই ভাষা শিখে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমেও বাংলাদেশের মানুষ আয় করতে পারবে।