ভূমিকম্প বা সুনামির আঘাত সামলাতে পারবে না বাংলাদেশ

earthquakগত পরশু ইন্দোনেশিয়া সহ থাইল্যান্ড, ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল৷ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশেও৷ বিরাট ধরণের ভূমিকম্প বা সুনামি যদি আবারো আঘাত হানে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা কী হবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল জানান সুনামি বা ভূমিকম্পের আঘাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা ভীষণভাবে নাজুক৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘সুনামি বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন একটি দুর্যোগ৷ ২০০৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশের মানুষরা এর সঙ্গে পরিচিত৷

সুনামি প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশের ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত৷ আমরা সম্প্রতি দেশের মানুষদের সচেতন করতে বিভিন্ন ধরণের কাজ করে আসছি৷ সরকার হাতে নিয়েছে বেশ কিছু প্রকল্প৷ আমাদের উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রায় তিন হাজার সাতশো সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে৷ এবং প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটারের মতো উপকূলে বাধ রয়েছে৷ আরো রয়েছে ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক৷ তাদের আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়েছি৷ তারাই মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে চলছে৷ এসব স্বেচ্ছাসেবকদের সুনামি এবং ভূমিকম্প সম্পর্কে বিভিন্ন ধরণের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে৷’’এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশে বড় আকারের ভূমিকম্প হয় তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন হতে পারে?

এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বললেন, ‘‘ঢাকার অদূরে মধুপুরে ১৮৮৫ সালে সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল৷ সেই আকারের ভূমিকম্প যদি বাংলাদেশে হয় তাহলে ঢাকার তিল লক্ষ ছাব্বিশ হাজার দালান-কোঠার মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় বাহাত্তর হাজার দালান কোঠা ভেঙ্গে পড়বে৷ এবং ছিয়াশি হাজার দালান-কোঠা বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে উঠবে৷ এক লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার দালান-কোঠার মানুষ রাত কাটাবে খোলা আকাশের নীচে৷ চট্টগ্রামে এক লক্ষ বিরাশি হাজার দালান-কোঠার মধ্যে এক লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার দালান-কোঠার ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ সিলেটেও বাহান্ন হাজার দালান-কোঠার মধ্যে চব্বিশ হাজার দালান-কোঠা তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙ্গে পড়বে৷”

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ