ভাগ্য খুলছে দেড় হাজার শিক্ষকের

techerজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি কলেজে কোনো বিষয়ে ডিগ্রি পড়াতে হলে অন্তত তিনজন শিক্ষক থাকতে হবে। অনার্স পড়াতে গেলে লাগে চারজন শিক্ষক। অথচ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ম অনুসারে, একটি বিষয়ে মাত্র দু’জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে পারেন। এই দু’জনের বেতন সরকার দেয়। একই বিষয়ের তৃতীয় শিক্ষকের বেতন-ভাতা কলেজ তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হয়।

সরকারি এই নিয়মের ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের সব ডিগ্রি কলেজে বিষয়ভিত্তিক তৃতীয় পদের শিক্ষকরা এতদিন এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বছরের পর বছর যৎসামান্য বেতনে চাকরি করছেন। তবে এবার তাদের কপাল খুলছে।

২০১০ সালের আগে ডিগ্রি কলেজে তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সারাদেশের ৪৩৫ জন কলেজ শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বরের পর বেসরকারি কলেজ ও স্কুল পর্যায়ের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত শ্রেণি, শাখা ও বিভাগ খোলা হয়েছে, সেসবের বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষককেও এমপিওভুক্ত করা হবে। এ ধরনের শিক্ষক বেসরকারি কলেজ পর্যায়ে রয়েছেন প্রায় ৫শ’র মতো। আর বেসরকারি স্কুল পর্যায়ে রয়েছেন ৬০০। এই প্রায় এক হাজার ১০০ শিক্ষকও নতুন করে এমপিওভুক্ত হতে যাচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কলেজ ফান্ড থেকে নামমাত্র সম্মানী পেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকার যুক্তিতে এসব শিক্ষককে কোনো প্রকার সম্মানী ভাতাও প্রদান করা হয় না। এরা সরকারের এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।

এই শিক্ষকদের দুর্দশা লাঘরে গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শামসুল হুদা, পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ কলেজ ও স্কুল শাখার উপপরিচালকরা। সভায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষককে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নন-এমপিও শিক্ষকদের নিয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। যাতে উল্লেখ করা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ প্রদান এবং জনবল কাঠামো সম্পর্কিত নির্দেশিকা ২০১০-এ যাই থাকুক না কেন, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত শ্রেণি, শাখা/বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে নিযুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।’ এই আদেশের কারণে এতদিন ওই তারিখের পরে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা কেউই এমপিওভুক্ত হতে পারছিলেন না। এই সার্কুলারের কারণে সারাদেশের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শিক্ষকদের

এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রনি। তিনি সমকালকে বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দুরবস্থা ও দুর্দশা লাঘবে সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করারও দাবি জানান।