ব্লু হোয়েল’র ভয়াল থাবায় প্রাণ গেল ১৫০ মানুষের

ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য হওয়ায় অনলাইন গেমসের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আসক্তি সবচেয়ে বেশি। আর এই অনলাইন গেমসের আসক্তি ডেকে আনছে আত্মহত্যার পথ। এমনই এক আত্মঘাতী গেমস ‘ব্লু হোয়েল’ এর ভয়াল থাবায় অকালে প্রাণ হারিয়েছে সারাবিশ্বে দেড় শতাধিক তরুণ-তরুণী।
ব্যস্ত নগরজীবনে মানুষের অবসরের সঙ্গী প্রযুক্তি। আধুনিক বিজ্ঞানের হাত ধরে প্রযুক্তির সাথে সখ্যতা বেড়েছে তরুণ প্রজন্মের। একাকীত্ব দূর করতে তারা ঝুঁকে পড়ছে ইন্টারনেটে।

তবে বর্তমান সময়ে ব্লু হোয়েল গেমস আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের কাছে। ইন্টারনেটভিত্তিক ব্লু-হোয়েল গেমটি ২০১৩ সালে রাশিয়ায় তৈরি হয়। ফিলিপ বুদেকিন নামে এক মনোবিজ্ঞানের ছাত্র এই মরণঘাতী খেলা তৈরি করেন। খেলার নির্দেশ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীকে ৫০টি ধাপে শেষ করতে হয়। খেলার সবশেষ ধাপে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়।

এই গেমের ছলেই এডমিন বা কিউরেটররা হাতিয়ে নেয় প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অনেক তথ্য।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার তরুণ প্রজন্মকে মরণঘাতী এই গেমসের হাত থেকে বাঁচাতে আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের এ ব্যাপারে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ব্লু হোয়েল গেমসের কারণে রাশিয়া, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অকালে প্রাণ গেছে শতাধিক তরুণ-তরুণীর। সম্প্রতি রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে এক কিশোরী মরণঘাতী এই গেমসে আসক্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছে তার পরিবার।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা: মো: ফারুক আলম পরামর্শ দেন, অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের ব্লু হোয়েল কিংবা ইন্টারনেট ভিত্তিক গেমসের প্রতি আকর্ষণ কমাতে বিভিন্ন সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হবার।

দেশের তরুণ প্রজন্মকে ব্লু হোয়েল গেমস এর ছোবল থেকে বাচাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।