বিয়ে পাগলা শাহীনের পঞ্চম বউ হলেন বিদ্রোহী কবির নাতনী

নিউজার্সির প্রবাসীদের কাছে বিয়ে পাগলাখ্যাত প্রকৌশলী শাহীন তরফদারকে বিয়ে করলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনী অনিন্দিতা কাজী। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির একটি কোর্টে তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। এর আগে ১১ জুন পারিবারিকভাবে মুসলিম রীতিতে বিয়ে করেন তারা।

এটি অনিন্দিতা কাজীর দ্বিতীয় বিয়ে হলেও শাহীন তরফদারের বৈধভাবে পঞ্চম বিয়ে। শাহীন তরফদার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী বেবী নাজনীনের সঙ্গে বন্ধুত্বে জড়িয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাত দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। পরবর্তীতে বেবী নাজনীনের ছোট বোন সঙ্গীত শিল্পী লিনি সাবরীনকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে তার একটি কন্যা রয়েছে। অন্যদিকে অনিন্দিতা কাজী তার আগের পক্ষের মেয়েকে কিছুদিন আগে বিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শাহীন তরফদার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। লিনিকে বিয়ে করলে সেই ঘরে তার একটি মেয়ে রয়েছে। বেবী নাজনীনের বোন লিনি সেখানে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলাও করেছিলেন। পরবর্তীতে লিনুকে ডিভোর্স দিয়ে শাহীন তরফদার ঢাকায় একটি বিয়ে করেন।

এখানে একটি সন্তানও হয় তাদের। এখানেও ঘর ভাঙেন তিনি। বউকে দুধের শিশুসহ তার ফ্লাট থেকে বের করে দেন। নারী নির্যাতন মামলায় কঠিন বিপর্যয়ে পড়লে প্রখ্যাত ডিফেন্স কৌসুলী মোশারফ হোসেন কাজল তাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। সেই মামলা এখনো চলছে।

এরপর বিভিন্ন জায়গায় বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখাত শাহীন তরফদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপিকাকে বিয়ে করেন এবং নিউজার্সিতে ধুমধাম অনুষ্ঠানও করেন। সেই বিয়ে ৬ মাসও টিকেনি। তার নানা কীর্তিকলাপে ওই শিক্ষিকা তাকে ডিভোর্স দেন।

দীর্ঘদিন পর অনিন্দিতা কাজী সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন। সবার সঙ্গে দেখা, সাক্ষাত, আড্ডা, হই চই করে গেছেন। ঢাকায় গুঞ্জন রয়েছে, অনিন্দিতা কাজীর সঙ্গে অপি করিমের স্বামী এনামুল কবির নির্ঝরের প্রণয় ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেলে নিউজার্সি প্রবাসী তার পূর্বপরিচিত কবীর কিরণের বাসায় তার সম্মানে এক আড্ডা ও নৈশ্যভোজের আয়োজন করা হয়।

সেখানে সামাজিকভাবে নিভৃতে থাকা শাহীন তরফদারের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সুবাদেই শাহীন তরফদার তার বাসায় তাকে দাওয়াত করেন। এর মধ্য দিয়ে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে বসেন। তখন কবীর কিরণের ঘটকালিতেই তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

নিউজার্সির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে যে, শাহীন তরফদার চলনে বলনে এতটাই পারদর্শী যে যেকোনো মহিলাকে দ্রুত পটিয়ে প্রেমে ফেলতে পারেন এবং বিয়ে করে সহজেই ভেঙে দিতে সক্ষম হন। নিজেকে ফিল্মমেকার বলে দাবি করলেও তার কোনো ফিল্ম আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও দেখা যায়নি। একের পর এক নারী কেলেঙ্কারী ও বহু বিবাহ ভাঙার ঘটনায় নিজেকে প্রবাসী কমিউনিটিসহ লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেই পথ চলতে পছন্দ করেন।

তার এই পঞ্চম বিয়ের সংবাদ শুনে অনেকেই বলছেন, দেখা যাক এটি কতদিন টিকে? তার বিভিন্ন মামলার সঙ্গে জড়িত একজন আইনজীবী বলেছেন, অর্থের প্রতি লোভ ও কৃপণতা শাহীন তরফদারের মধ্যে এতটাই প্রকট যে, বারবার বিয়ে করলেও বউ চালানোর দায়িত্ব তিনি নিবেন না। বউকে তার ভরণ পোষণ চালাতে হবে। বেবী নাজনীন পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও শাহীন তরফদারকে কাছে থেকে দেখা চাকসুর সাবেক ভিপি নাজিম উদ্দিন বলেছেন, তার চরিত্রই একের পর এক ঘর ভাঙা ও বিয়ের জন্য দায়ী। রসিকতা করে তিনি আরো বলেন, ৫টি বিয়ে করলেও তার বড় গুণ প্রতিটি বিয়েতেই প্রথম বিয়ের মতোই পাগড়ী-শেরওয়ানিতে নিজেকে সাজান।

বিয়ের বিষয়ে ঘটক কবীর করিম শুধু বলেন, বুধবার শাহীন ও অনিন্দিতা বিয়ে করেছেন। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

অনিন্দিতা কাজীর মা কল্যাণী কাজী চাইছিলেন তার মেয়ের বিয়ে হোক। অনিন্দিতা কাজীও বিয়ে করতে মনস্থির করেছিলেন। তাদের বিয়েতে কবীর কিরণ, তার স্ত্রী সাবরিনা কবীর ছন্দা, অনিন্দিতা কাজীর ভাই অনির্বান কাজীর স্ত্রী শারমীন কাজীসহ নিউজার্সির বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।