বিশ্বনেতাদের সমালোচনার জবাবে একি বললেন সুচি

suchiগত ২৫ আগস্ট রাখাইনের পুলিশ চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার পর রাখাইনে শুরু হওয়া বর্বরতম সেনা অভিযান এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হতে বাধ্য হয়েছে। সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের অন্তত ২০০টি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃসংশতার যে বর্ণনা দিচ্ছেন সেখানে হত্যা, ধর্ষণ, জবাই, নির্বিচারে গুলি, শিশুদের পুড়িয়ে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রতি এমন বর্বরতায় মিয়ানমারের বিশেষ করে দেশটির ডি ফ্যাক্টো লিডার ও নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচির সমালোচনায় মুখর হয়েছে সারা বিশ্ব। জাতিসংঘ মহাসচিব থেকে শুরু করে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধান সরাসরি সমালোচনা করেছেন সু চি’র। এবার এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন সুচি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন সুচি। তার একদিন পরই জাপানের নিকি এশিয়ান রিভিউ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিরুদ্ধে যাবতীয় সমালোচনার জবাব দেন সুচি।

সুচি বলেন, ‘আসলে এটি অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। কারন মানুষের মতামত বদলায়, বিশ্ব নেতাদের মতামতও বদলাবে। আমরা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যেসব দেশ আমাদের মতো অবস্থার মুখোমুখি হয়নি, তাদের চেয়ে আমরা অনেক ভালো বুঝি।’

সুচি বলেন, অন্যান্য সব গণতান্ত্রিক দেশের মতো আমাদের দেশেও বিরোধী দল আছে। অর্থাৎ আমরা সমালোচনা ও তর্কের সুযোগ আমাদের দেশেও আছে।

১৯ সেপ্টেম্বরের ভাষণে সুচি বলেছিলেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাখাইনে আর কোনো সেনা অভিযান হয়নি। কিন্তু আজকের দিন পর্যন্তও দলে দলে রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

নিকি এশিয়ান রিভিউ পত্রিকার পক্ষ থেকে সুচিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে আমাদের আরও সময় প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করে যাচ্ছি।