খুব সহজেই যেভাবে বিমান দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা সম্ভব

biman agunএক বাক্যে বলতে গেলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি আপনার হাতে থাকে না। তারপরেও কথায় বলে, ‘সাবধানতার মার নেই।’

কিছু সচেতনতাই আপনাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। এমনকি ৯৫ শতাংশ বিমান দুর্ঘটনা থেকে বেশ কিছু যাত্রী বেঁচে ফেরেন। জেনে নিন কিছু বিষয়।

পোশাক এবং জুতা দুটোই যেন আরামদায়ক হয়। হিলজাতীয় জুতা পরবেন না।

৪০% যাত্রীর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যদি তাদের আসন হয় বিমানের পেছনের দিকে। চেষ্টা করুন পেছনে অথবা দরজার আশেপাশে আসন নেওয়ার।

বিমান ছাড়ার আগে সেফটি কার্ডে দেওয়া পুরো বিবরণ পড়ে নিন ভালোভাবে। এছাড়াও এয়ারহোস্টেজের দেওয়া সেফটি স্পিচে মনোযোগী হন। এসবে এমন কিছু টিপস থাকবে যা বিমান দুর্ঘটনায় আপনাকে সহায়তা করবে।

কোনও পরিস্থিতিতেই সিট বেল্ট খোলা যাবে না। এমনকি ঘুমানোর সময়েও।

বিমানে এক্সিট থেকে আপনার আসন পর্যন্ত কয়টি আসন রয়েছে তা গুনে নিন। এতে দুর্ঘটনায় পড়লে আপনি বিমান থেকে বের হওয়ার দরজাটা খুঁজে পাবেন সহজে।

দুর্ঘটনায় পড়লে বিমান কোথায় ল্যান্ড করতে যাচ্ছে সেই হিসেবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি যান্ত্রিক গোলযোগবশত বিমানটি কোনও সাগরে নামার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পড়ে নিন। আপনার পরিবারের সদস্যদেরও নির্দেশটি দিয়ে দিন। আর এ সময়টা কিন্তু খুব অল্প সময়ের। এর মধ্যেই আপনাকে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলতে হবে।
দুর্ঘটনায় ধোঁয়ার ফলে শ্বাস নেওয়া সম্ভব হয় না। অক্সিজেন মাস্ক পরতে হবে অবশ্যই।

দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি অবতরণের সময় আপনার সামনের আসনটি দুহাত আড়াআড়ি করে ধরে রাখুন। এবং আপনার মাথা দুই হাতের উপর রাখুন। এর ফলে আপনার ঘাড় কিংবা স্পাইনাল কর্ডে ঝাঁকুনি লাগার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমবে।
এতো গেল বিমান অবতরণের পূর্ব প্রস্তুতি। এরপর দুর্ঘটনা কবলিত বিমান থেকে নিজেকে বের করবার জন্যে খেয়াল রাখুন আরও কিছু বিষয়-

আগুন এবং ধোঁয়ার কারণেই অধিকাংশ যাত্রী বের হতে পারেন না। কারণ এই ধোঁয়া অনেক ভারী এবং বিষাক্ত। তাই যত দ্রুত সম্ভব আপনার নাক ও মুখ কোনও কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলুন যাতে কোনমতেই শ্বাসনালীতে ধোঁয়া না পৌঁছায়।

এরপর যত দ্রুত সম্ভব বিমান থেকে বের হতে হবে। এই কাজটি আসলেই অতটা সহজ নয়, বেশিরভাগ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও থাকে না। তারপরেও চেষ্টা করুন আগুন এবং ধোঁয়া কাটিয়ে দ্রুত বের হয়ে আসার। আর এ ক্ষেত্রে সময়টা হতে পারে দু মিনিটেরও কম।

নিজের জীবনটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। যদিও অনেকে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুলেও এমনটি করার দরকার নেই। আপনি সুস্থ থাকলে এমন জিনিস মিলবে অনেক।

বিমান থেকে বেরিয়েই চেষ্টা করুন অন্তত ৫০০ ফিট দূরত্বে অবস্থান করতে। যাতে বিস্ফোরণে কোনও কিছু উড়ে এসে আপনার গায়ে না পড়ে। আবার এর চেয়ে বেশি দূরত্বে যাওয়াটাও ঠিক হবে না। এতে উদ্ধারকর্মীরা আপনাকে সহজেই খুঁজে পাবে না।

মাটি থেকে হাজার ফুট ওপরে বসে দুর্ঘটনার একটি পরিস্থিতে নিজেকে শান্ত রাখা মোটেও সহজসাধ্য নয়। ভীতি এবং উদ্বেগ, এই আবেগগুলোই কাজ করতে থাকে তখন। কিন্তু শুধুমাত্র শান্ত অবস্থাতেই আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বের হতে পারবেন। নতুবা এই আশাটুকুও কিন্তু হাতছাড়া হয়ে যাবে।