বহু বছর পর মন্ত্র পড়ে খুলা হল রহস্যেঘেরা এক বালক রাজার মমি

momy

মিসরের তুতেনখামেনের সমাধিস্থলকে ঘিরে বহু বছর ধরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। সারা পৃথিবী জুড়েই এর আবেদন আজও একই রকম।

এটা নিয়ে বিখ্যাত হলিউডি ছবি এবং জমজমাট গল্পকাহিনি তৈরী হয়েছে। অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে সমাধিক্ষেত্রটি।

মমিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রহস্য এবং বিতর্ক তুতেনখামেন নামের এক বালক রাজার মমিকে ঘিরে। এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।

দীর্ঘ সময় ধরে এই মমিকে রাখা হয়েছিল দর্শকের চোখের আড়ালে। এবার তাকে প্রকাশ্যে আনা হলো।

সমাধিক্ষেত্রটিকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। কেবল তাই নয়, তুতেনখামেনের সমাধিটিরও স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।

সমাধি সামান্য কাত হলেও অঘটন ঘটতে পারে, এই আশঙ্কায় নাকি অত্যন্ত সাবধানে তাকে সরানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মন্ত্রও পড়া হয়েছে। ১২ জন ব্যক্তি এক নাগাড়ে মন্ত্র পড়ে গেছে।

তবে কোনও অঘটন ঘটেনি। সমাধিতে যাতে ঠিকভাবে বাতাস ঢুকতে পারে, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

তিন হাজার বছরের পুরনো সমাধিক্ষেত্র যাতে আরও বহু বছর ধরে একই রকম থাকতে পারে সেজন্য মিসরের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সবাই সচেতন।

বর্তমানে তুতেন খামেনের মৃত মুখের ছাঁচে তৈরি মুখোশটি কায়রো জাদুঘরের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের একটি। গত বছর আগস্টে জাদুঘরেরই এক কর্মীর ধাক্কায় ভেঙে যায় মুখোশের দাঁড়ির অংশটি।

নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সাধারণ আঠা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে সেটি জোড়া লাগানো হয়। মিসরীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে অনেক পরে। মুখোশের কোনো ক্ষতি না করে সেই আঠা তুলে ফেলাটাই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা পরবর্তী ধাপে স্থায়ীভাবে দাঁড়ির অংশটি পুনর্স্থাপন করবেন। মূলত এ প্রকল্পের দুটি বড় অংশ রয়েছে, যার একটি হলো দাঁড়ির অংশটি খোলা এবং আবার তা পুনর্স্থাপন করা।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে প্রাচীন মিশরীয়রা মমি তৈরির একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বের করেন। কয়েকটি ধাপে এই মমি বানানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতো।

প্রাচীন মিশরের পিরামিডের কথা কম বেশি আমরা সবাই জানি।

কিন্তু অভিশপ্ত তুতেনখামের মমি রহস্য হয়ত অনেকেরই অজানা।

পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা অবিশ্বাস্য বা কাকতালীয় মনে হলেও অনেকেই হয়ত বিশ্বাস করতে বাধ্য হন। ১৯৮৬ সালে ফ্রেন্চ বৈজ্ঞানিক কর্লিন স্টানফিলিপ সমস্ত মৃতুর জন্য একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা করেন।

কর্লিন তুতেনখামেনের মমি পরীক্ষা করার পর ব্যাখ্যা করেন যে – প্রাচীন কালে এই মমি বানানোর সময় যে উপকরণ ও কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিলো ।

তা সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যায় এবং এতে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সৃষ্টি হয় , এবং এই সিদ্ধান্ত দিতে চান যে যাঁরা তুতেনখামেনের মমিতে প্রবেশ করেছিলো সবাই ই ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনে মারা যান ।

তবে অনেক বৈজ্ঞানিকই কর্লিনের এই মন্তব্যের সাথে একমত হতে অস্বীকৃতি প্রদান করেন , কারণ ফারাও সম্রাট তুতেনখামেনের সমাধি খনন কারী অনেকের ই মৃত্যুর কারণ ছিলো ভিন্ন ভিন্ন ।

বিজ্ঞানের জয়জয়কারের এই যুগে ‘ ফারাও সম্রাট তুনেন খামেনের অভিশপ্ত মমি ‘ আজও এক অজানা রহস্য।