প্রাথমিক শিক্ষার জন্য মহাসুখবর

primaryএবার প্রাথমিক শিক্ষার মানের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় পাঠদানের আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি চালু করা হবে। আর এ কারণে ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

জানা গেছে, পাঠ্যপুস্তক উন্নত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাবারের বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে এ প্রকল্পে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। এটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা খাতের এই প্রকল্পটিকে স্বপ্নের প্রকল্প বলে উল্লেখ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একনেক বৈঠক-পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার মান বাড়ানোর কাজ প্রাথমিক থেকেই শুরু করতে হবে। এজন্য প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে ২৫ হাজার ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বাকি ১২ হাজার ৮০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আসবে বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ইইউ, ডিএফআইডি, অস্ট্রেলিয়ান এইড, কানাডিয়ান সিডা, সুইডিশ সিডা, ইউনিসেফ ও ইউএসএইচ প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে।

এর আওতায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ জন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন করা হবে। এতে গুরুত্ব পেয়েছে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও। প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৪ জন শিক্ষককে ডিপিইনএড, ৫৫ হাজার শিক্ষককে বুনিয়াদি, ১ হাজার ৭০০ শিক্ষককে এক বছর মেয়াদি সাব-ক্লাস্টার, ২০ হাজার শিক্ষককে এক বছর মেয়াদি আইসিটি, ৬৫ হাজার শিক্ষককে লিডারশিপ ও ১ লাখ ৩০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষককে ব্রিটিশ কাউন্সিলের (সিঙ্গেল সোর্স) মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের জন্যও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২ হাজার ৫৯০ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষককে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে প্রশিক্ষণ পাবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ৩৫ হাজার কর্মকর্তা ও শিক্ষক। পাশাপাশি ২০০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য বিদেশে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্সের ব্যবস্থা করা হবে। এর বাইরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বর্তমান পাঠ্যসূচির সংশোধন ও টিচিং লার্নিং শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হবে। শিক্ষার আওতায় আনা হবে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগবহির্ভূত ১০ লাখ শিশুকে।