চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা গুরুত্ব পাচ্ছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে

ligআওয়ামী লীগের ইশতেহারে তরুণ-যুবক বিশেষ করে নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা থাকছে। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ইশতেহারের বিষয়ে কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৮ সালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণার প্রবর্তক আওয়ামী লীগ সরকার টানা দুবার ক্ষমতায় থেকে এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে কী চমক রাখছে- তা নিয়ে চলছে গুঞ্জন।

চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগের ইশতেহারে যুক্ত হতে পারে। চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ালে চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে বয়সের ভারসাম্য থাকবে না বলেও মত দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন বলে উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৪ বছর বয়সে একজন শিক্ষার্থী তার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির পরীক্ষায় বসে। চাকরিতে প্রবেশের বর্তমান বয়সসীমা ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে এ সীমা ৩২ বছর। এ বয়স বাড়ালে সিনিয়র-জুনিয়র ভারসাম্য থাকবে কিনা- তা ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ নিয়ে তিনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। বয়স বাড়ানো হলে নির্দিষ্ট চাকরিতে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কতবার আবেদন করতে পারবে তার একটি সীমানা টেনে দেওয়া হতে পারে ইশতেহারে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

ইশতেহার প্রণয়নে যুক্তরা বলছেন, এবারের ইশতেহার প্রণয়নে তারা তরুণ ভোটারদের টার্গেট করেছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশ থেকে নির্বাচিত কিছু তরুণের সঙ্গে বিশেষ এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বসেছিলেন। তাদের পরামর্শ ও পরিকল্পনার কথা শুনেছেন তিনি।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চাকরি বলেন, নিরাপদ সড়ক বলেন, বা কোটা বলেন, আমরা তো তরুণদের বিরুদ্ধে যাইনি। আমরা তরুণদের সঙ্গেই ছিলাম। আমরা যে তরুণদের চিন্তাগুলোকে আমাদের আমলে নিচ্ছি এটা তাদের উপলব্ধির মধ্যে আছে।

তরুণদের চাকরির চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকছে নানান চমক। নতুন কর্মসংস্থান, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতির উন্নয়ন, চরাঞ্চলের মানুষ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি, প্রান্তিক জনগণের আধুনিক টেকনোলজির সব সুযোগ-সুবিধা ও ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র সম্পদনির্ভর অর্থনীতির বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধান্য পাচ্ছে।