সেই শিশুটি প্রবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঁচ হাজার ডলার ফেরত চাইলো

nayem (3)

মাথা ঠিক ছিল না, তাই ভুলে খালেদা জিয়ার নাম বলেছিলাম।

 টিভি উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারের সময় মাথা ঠিক না থাকায় ভুলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম বলেছিলেন, বলে জানিয়েছেন আলোচিত শিশু নাঈম ইসলাম।

মঙ্গলবার রাতে মজার টিভি নামে এক ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে নাঈম বলেন, আমাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি, আমি নিজ থেকেই ভুলে বলে ফেলেছি।

জয় মামা মানুষ ভালো। সাক্ষাৎকার শেষে তিনি আমাকে দুই হাজার টাকা দিয়ে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচিত রাজধানীর করাইল বস্তির শিশু নাঈম ইসলাম আরও বলেন, জয় মামার কোনো দোষ নেই

আমার ভালোর জন্যই তিনি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকেও বলছি জয় মামার কোনো দোষ নেই।

আমার মাথা ঠিক ছিল না, এ জন্য ভুল করে বলে ফেলেছি ওই কথা।

nayem

এদিকে ছোট্র ছেলের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন তার মা নাজমা বেগম।

তিনি বলেন, “জয় ভাইয়ের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে আমার ছেলে যে কথাটি বলেছে সেটির জন্য তার কোনও দোষ নেই।

সে আমার ছেলেকে কিছু শিখিয়ে দেননি। না বুঝে খালেদা জিয়াকে নিয়ে ওই কথাটি নাঈম বলে ফেলছে।

এর জন্য ছেলের হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়াসহ দেশবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাই। যাতে তারা আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দেয়।”

“আমি মা হয়ে সবার কাছে অনুরোধ করছি, যাতে এই কথাটি নিয়ে আর আলোচনা না হয়। আর আমার ছেলের ওই বক্তব্যের জন্য যাতে জয় ভাইকে কেউ ভুল না বুঝে।”

তিনি বলেন, অনেকে নাঈমের সাক্ষাৎকার নিতে আসে, তারা একেক কথা জিজ্ঞাস করে।

জয় ভাইয়ের সাক্ষাৎকারে তাই আমার ছোট ছেলেটা ভুলে  খালেদা জিয়াকে নিয়ে বলে ফেলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে রাজধানীর করাইল বস্তির শিশু নাঈম ইসলাম বেশ আলোচিত।

nayem (2)

গত ২৮ মার্চ বনানীতে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের দিনে হাজারো উৎসুক মানুষের মাঝে শিশু নাঈম ফায়ার সার্ভিসের একটি পাইপের ছিদ্র অংশ দুই হাতে চেপে ধরে পানি বের হওয়া আটকাতে নিরন্তন চেষ্টা করে যাচ্ছিল।

নাঈমের এই দৃশ্যের ছবি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। নাঈম আখ্যা পায় পাইপ বালক নামে।

সম্প্রতি টিভি উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় বনানী ট্র্যাজেডির বীর শিশু নাঈম ইসলামের একান্ত সাক্ষাৎকার নেন। নাঈমের সঙ্গে তখন তার বাবা-মাও ছিলেন।

নাঈম পুরস্কারের সেই টাকাগুলো নেবে কিনা? আর নিলেও সেই টাকা কিসে খরচ করবে?

এমন প্রশ্ন করেন উপস্থাপক জয়। জবাবে নাঈম জানায়, সেই টাকাগুলো সে এতিমখানার অনাথ শিশুদের জন্য দান করে দিতে চায়। ছেলের এ জবাবে সায় দেন তার মা-বাবাও।

এতিমখানায় কেন টাকা দিতে চায় এমন প্রশ্নের উত্তরে নাইম বলন, কিছু বছর আগে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুট করে খেয়েছে তাই এই টাকা তিনি এতিমদের দিতে চান।

তবে শিশু নাঈমকে জয়ের এ ধরনের প্রশ্ন করাটাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছেন ফেসবুক ব্যবহাকারীরা।

তারা বলছেন, ওই শিশুটি নিজ থেকে এসব কথা বলেনি। উপস্থাপক জয় শিশু নাঈমকে কথাগুলো শিখিয়ে দিয়েছেন।

naye

এদিকে শিশুটির সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে অভিনেতা জয়কে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিসহ সবার কাছে ‘জীবন ভিক্ষা’ চেয়েছেন।

এছাড়া মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর রুপনগর থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন জয়।

এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি ও হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডি উদ্ধারে সন্ধ্যায় ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন ইউনিটে গিয়ে একটি আবেদন করেছেন এ অভিনেতা।

এর আগে অভিনেতা জয়ের সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর শিশু নাঈমের আরেকটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ভাইরাল হয়।

naim

যেখানে সাংবাদিক ও উপস্থাপক আমিরুল মোমেনিন মানিক নাঈমের কাছে জানতে চান, ‘তোমার মা কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন।

তোমার পড়াশোনার খরচ বহন করছেন, তোমার নিজেরই টাকা দরকার, তাহলে তুমি কেন সে টাকা নিজে না রেখে এতিমদের দিয়ে দিতে চাও? এটা কী তোমার মনের কথা?’

জবাবে নাঈম বলেছিল, ‘না, এটা বলতে তারা শিখিয়ে দিয়েছিল।’ এরপর উপস্থাপক মানিক বলেন, ‘যিনি তোমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন তিনি এখন বলেছেন আর টাকা দেবেন না। তুমি কী টাকাটা চাও?’

নাঈমের জবাব, ‘আমি ওই কথা না বুঝে বলেছি, আমি টাকা চাই, আমার পড়াশোনার জন্য টাকা চাই।’