পিএইচডি ৬ লাখ বিবিএ ৩ লাখ

Asrafulসুইজারল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ ক্যাম্পাস উল্লেখ করে চট্টগ্রামে শিক্ষার নামে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন এক ব্যক্তি। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় নাম কিংস্টোন ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন কাগজপত্র ও বিজ্ঞাপনে।

চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকা মারফত জানা যায়, মহানগরীর সুগন্ধ্যার একটি বাড়িতে একটি ক্যাম্পাস ও মিমি রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ার জাফর ভিলায় স্থায়ী ক্যাম্পাস উল্লেখ করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ঢাকা ও কক্সবাজারে এডমিশন অফিস। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি চক্র। বিজ্ঞাপনে শুধু বিবিএ, এমবিএ নয়, ২ বছরের পিএইচডি ডিগ্রিরও অফার রয়েছে। পিএইচএইচডির জন্য খরচ পড়ে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ৩ বছরের বিবিএ প্রোগ্রামের জন্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ছাড়াও ৩০ হাজার টাকা ভর্তি ফি।

এছাড়া রয়েছে এক থেকে তিন বছর মেয়াদী বিভিন কোর্স। সম্প্রতি ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করা এক ছাত্রের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ধরা পড়ে বিষয়টি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম সজীব এক ছাত্রের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করে এক ছাত্রকে নোটিস দিলেই বিষয়টি ধরা পড়ে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ও সিনিয়র সহকারী সচিব (লিগ্যাল) মৌলি আজাদ স্বাক্ষরিত ২৬ এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, সুইজারল্যান্ড যার স্থানীয় নাম কিংস্টোন ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় সরকার বা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক অনুমোদিত নয়।

এদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রের করা মামলায় বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালত অভিযুক্ত ড. আশরাফুল ইসলাম সজীবকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তিনি ওইদিন আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সুসেন কান্তি দাশ বলেন, আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। নগরীর সুগন্ধ্যা আবাসিক এলাকার ভুক্তভোগী মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া গত বছর ২১ এপ্রিল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি সুইজারল্যান্ডের ডিগ্রি পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিংস্টোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি বিবিএ সম্পন্ন করার পর বাদীকে আশরাফ স্বাক্ষরিত একটি সার্টিফিকেট দেন। ওই সার্টিফিকেটে আশরাফ বিশ্ববিদ্যালয়টি চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাক্ষর করেন। ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কারো স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্ত এ ব্যাপারে কোনো উত্তর দেননি। বাদীকে উল্টো ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি দেন। এরপর গত বছর ১৪ মার্চ ২ লাখ টাকা বকেয়া থাকার কথা উল্লেখ করে ৫ দিনের মধ্যে তা পরিশোধের জন্য মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়াকে নোটিস দেন।

এরপর নোটিসের উত্তর দেয়ার পর মোসলেহ উদ্দিনও তার সার্টিফিকেট দাবি করে আশরাফকে লিগ্যাল নোটিস দেন। এরপর সিএমএম আদালতে আশরাফের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬,৪২৬,৪২২ ও ৫০৬ ধারার অভিযোগে মামলাটি করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার এসআই মো. হাছান আলী ২ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আসামি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। আসামি কিংস্টোন ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় চেয়ারম্যান পরিচয়ে বহু শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করেছেন।

অপরদিকে, বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মাসুদ পারভেজ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিবেদনেও এ নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।