পানির মত সহজসাধ্য কিছু আমল যাতে রয়েছে প্রচুর সওয়াব

duyaসহীহ হাদিসের আলোকে পানির মত সহজসাধ্য কিছু প্রচুর সওয়াবের আমল… দুই-তিন মিনিট সময় নিয়ে পড়ুন।আখিরাতের জন্য প্রচুর উপকার হবে ইনশা-অাল্লাহ।

♦ জুমার দিন কেউ উত্তম রূপে গোসল করে বাড়ি থেকে ওযু করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে গিয়ে, তারাতরি মসজিদে গেলে, আদবের সাথে ইমামের কাছাকাছি বসলে এবং মনযোগ দিয়ে খুদবা শুনলে তাঁর আসা যাওয়ার প্রতি কদমে ১ বছরের নফল রোযা ও ১ বছরের নফল নামায পড়ার সওয়াব তাঁকে দেওয়া হবে!! (তিরমিজী ৪৯৬)

♦ কোন ব্যক্তি বাসা থেকে অযু করে যদি জামাতের সহিত নামায পড়ার জন্য মসজিদমুখী হয় তবে তাঁকে একটি পরিপূর্ন হজ্জের সওয়াব দেওয়া হয়। (মেশকাত ৭২৮)

♦হাসিমুখে কথা বলুন।হাসিমুখে কথা বলা সদকা স্বরুপ। অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়া পাওয়া যায়। ( বুখারী ২৭৬৭)

♦ “আসসালামুআলাইকুম” বলে কেউ সালাম দিলে তাঁর জন্য ১০টা নেকি লেখা হয়!কেউ যদি “আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লা” বলে তবে ২০ টা নেকি লেখা হয়!! আর কেউ যদি “আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু” বলে সালাম দেয় তবে ৩০ টা নেকি তাঁর জন্য লেখা হয়!!!( আবু দাউদ ৫১৯৫)

♦দুজন ব্যক্তি মিলিত হওয়ার পর মুসাফাহ করে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তাঁদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়। আরেক হাদিসে অাছে যখন মুসাফাহ করে তখন দুই হাতের ফাঁক দিয়ে গুনাহগুলো ঝরে পড়ে!
(আবু দাউদ ৫২১২)

♦কোন ব্যক্তি রাস্তায় কোন ক্ষতিকর বস্তু যেমন গাছের ডাল, কাঁটা, কষ্টদায়ক অন্য কোনকিছু দেখলে সে যদি মনে মনে ভাবে যে সে এটা ফেললে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন এবং পরে এটা তুলে ফেলে দিলো তবে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দিলেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করালেন।(আহমাদ ১০২৮৯)

♦কোন ব্যক্তি প্রথম আঘাতে টিকটিকি মারতে পারলে তাঁর জন্য ৭০ টি নেকি লেখা হয়।অন্য হাদিসে আছে, প্রথম হাদিসে বেশি নেকী, দ্বিতীয় আঘাতে মারলে তার চেয়ে কম, তৃতীয় আঘাতে তার চেয়ে কম নেকী লেখা হয়।(আবু দাউদ ৫২৬৪)

♦সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় অাল্লাহু অাকবার অার নামার সময় সুবহানআল্লাহ বলবেন।

♦কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি অপর কোন অসুস্থ মুসলিমকে সকাল বেলা দেখতে যায় তবে ৭০ হাজার ফেরেশতা সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া করতে থাকে। আর যদি সন্ধ্যায় দেখতে যায় তাহলে সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনার জন্য দোয়া করে।
(তিরমিজী ৮৯১)

♦সূরা ইখলাস তিনবার পড়লে ১ খতম কোরআন পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়।(বুখারী ৪৬২৭)

♦একবার দুরুদ পড়লে ১০ টি নেকি, ১০ টি সম্মাণ লাভ হয় এবং ১০ টি গুনাহ মাফ হয়।(বুখারীর আদাবুল মুফরাদ ৬৪৩)

♦যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কিছু ব্যয় করে, অাল্লাহ তার ঐ ব্যক্তির আমলনামায় তা ৭০০ গুন করে (বৃদ্ধি করে) সওয়াব লিখে রাখে।
(আহমদ ১৯০৩৬)

♦কোন মুসলিম বান্দা যখন ওযুর সময় মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলে তখন তাঁর চোখের গুনাহ সমূহ পানির সাথে ঝরে পড়ে,যখন হাত ধৌত করে তখন দুই হাতের গুনাহ ঝরে পড়ে, যখন পা ধৌত করে তখন পায়ের গুনাহ ঝরে পড়ে। এভাবে তাঁর সকল গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়।
(মুসলিম ৬০০)

♦কেউ ওযু করে ঘুম গেলে সারারাত তার পাশে থেকে একটা ফেরেশতা ঘুমন্ত ব্যক্তির ক্ষমার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করতে থাকে।(আত তারগিব ৫৯৭)

♦মানুষের শরীরে ৩৬০ টি গ্রন্থি রয়েছে। এগুলো প্রত্যেকটার জন্য সাদক্বাহ (দান) করা ওয়াজিব। যদি কোন ব্যক্তি মসজিদের ভিতরে কোন ময়লা পরিষ্কার করে কিংবা রাস্তার কোন আবর্জনা দেখলে তা সরিয়ে দেয় তবে ৩৬০টি গ্রন্থির সাদক্বাহ হয়ে যাবে। তা না পারলে, দুপুরের পূর্বে দু রাকাত চাশতের নামায পড়ে নিলে হবে।
(আহমদ ২২৯৯৮)

★আর হ্যাঁ, অবসর সময়ে জিকির করুন। সারাদিন বকবক না করে অন্ততপক্ষে প্রতিদিন ১০ মিনিট জিকির করুন… আর এই দশমিনিটে আপনি প্রচুর পরিমান সওয়াব পাবেন ইন-শা-আল্লাহ!
♥মহান অাল্লাহ অামাদের সবাইকে উপরিউক্ত অামল গুলো করার তৌফিক দান করুক, অামিন।