নির্দয়ভাবে ঘোড়াকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা

ghora

ঘোড়াটি ছিল শহিদুলের কাছে সম্বল, সম্পদ, নির্ভরতা। এক কথায় আপনজন। প্রতিদিন ঘোড়াটিকে নিজ হাতে খাবার দিতেন তিনি। সেবাযত্ন করতেন নিয়মিত। প্রিয় ঘোড়াটি হারিয়ে এখন নিঃস্ব শহিদুল।

অভাব অনটনের সংসারটির একমাত্র সম্বল ছিল ঘোড়াটি। সেই ঘোড়া দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি চালাতেন শহিদুল ইসলাম। তার আয়ের একমাত্র উৎস ছিল ঘোড়া আর ঘোড়ার গাড়িটি।

এই ঘোড়ার ওপর নির্ভর করে চালাতেন তার ছয় সদস্যের সংসার। চালাতেন দুই সন্তানের লেখাপড়া। ওষুধ কিনতেন বৃদ্ধ মায়ের জন্য। শহিদুলের সেই ঘোড়াটি রবিবার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মেরে ফেলেছে কে বা কারা!

শহিদুলের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধে থাকা প্রতিপক্ষরাই তার ঘোড়াটি মেরে ফেলেছে।

কিভাবে চলবে তার সংসার? ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ? এ নিয়ে দিশেহারা তিনি। শহিদুল টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা গায়েন মোড় গ্রামের মৃত মাজম আলীর ছেলে।

জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শাহআলম শনিবার তার ঘোড়াটিকে গোয়াইল ঘরে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। রোববার সকালে ঘোড়াটি ঘর থেকে বের করতে গেলে ঘোড়াটি পাওয়া যায়নি।

না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। এরপর বাড়ির পাশে সামাজিক বনায়নে গাছের সঙ্গে গলায় রশি টাঙানো অবস্থায় ঘোড়াটিকে স্থানীয় দেখে শাহ্আলমকে খবর দেয়।

সে গিয়ে তার প্রিয় ঘোড়াটি মৃত দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শাহ্আলম অভিযোগ করে বলেন, আমার সৎভাইদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারাই আমার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ঘোড়াটি মেরে ফেলেছে।

আমি এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি চাই। ঘোড়াটি মেরে ফেলায় আমি এখন দিশেহারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ঘোড়া একটি পশু। তার কোন দোষ নেই। একটি পশুকে এভাবে গলায় রশি দিয়ে মেরে ফেলা সত্যিই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক এসআই আইয়ুব আলী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।