ছাত্রলীগ নেতা রনির যত অপকর্ম!

roniপাঁচ বছর আগে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন নুরুল আজিম রনি। ওই সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির নেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ও মহানগর ছাত্রলীগের দুই নেতাকে টাকা দিয়ে পদ কিনে নেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতারা। তৎকালীন এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ সদস্য অমিতাভ চৌধুরী দাবি করেন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে এই পদ কিনে নেন তিনি।

যত অপকর্ম: যদিও এর আগে ছাত্রলীগের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে রনি ছিলেন না। সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক অঘটন ঘটাচ্ছেন। তার অপকর্ম পুরো সংগঠনের কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের নেয়া সুইমিং পুল নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থানসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে রনি অংশ নেয়। এতে নগর ছাত্রলীগের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। যদিও ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।

এছাড়া রনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে পেশিশক্তি প্রয়োগের অভিযোগ বহু পুরনো। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তিনি নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন কলেজের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজ সংগঠনের ছাত্রদের ওপর হামলা ও সংঘাত-সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ছেন তিনি। এসব কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংগঠনের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে। চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড তার একার ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে তার কক্ষে মারধরের ঘটনা ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ৭ মে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে অস্ত্রের মহড়া দেন রনি। এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন-উর রশীদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। তার কাছ থেকে এ সময় ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

২০১৫ সালে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় অবস্থিত আজমীর অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরি দখলেও রনি নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ আছে। ওই কারখানার মালিকপক্ষ রনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে।অতিরিক্ত ফি ফেরত নিতে গিয়ে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে অধ্যক্ষ জাহিদ খানকে কিল-ঘুষি মেরে তুমুল সমালোচিত হন রনি। হয়েছে মামলাও।

এর রেশ না কাটতেই প্রকাশ পেল রনির আরেক কেলেঙ্কারি। এবার তিনি পিটিয়েছেন চট্টগ্রামের ইউনি এইড কোচিং সেন্টার এর মালিক রাশেদ মিয়াকে। ইতোমধ্যে বিষয়টি জানিয়ে কোচিং মালিক রাশেদ পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের অফিস কক্ষের প্রায় ৬ মিনিটের এই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে আঙুল তুলে শাসিয়ে টেবিল চাপরাচ্ছেন রনি। এক পর্যায়ে রাশেদের গালে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় রনিকে। পরে চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করে রাশেদের গালে কয়েকবার থাপ্পড় মারেন তিনি।

মাঝে মধ্যে চলতে থাকে তার ‘শাসন’। এভাবে প্রায় আড়াই মিনিট চলার পর রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান রনি। কয়েক মুহূর্ত পরই আবারো ফিরে এসে গালমন্দ করতে থাকেন। এই মুহূর্তে তাকে দীর্ঘ সময় কারো সঙ্গে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পুরো ঘটনায় কোচিং মালিক রাশেদকে হাতজোড় করে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় রাশেদ মিয়া আজ বৃহস্পতিবার পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মারধরের শিকার রাশেদ জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রনি আমার জিইসি মোড়ের অফিসে এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সে আমাকে মারধর করে। এরপর গত ১৩ এপ্রিল রনি আমাকে তার মুরাদপুরের অফিসে ডেকে নিয়ে আবারও মারধর করে। ঐ দিন রাতে সে আমার সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসায় সন্ত্রাসী পাঠিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট এবং ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।