গ্রামের সবাই হিন্দু; মোড়ল নির্বাচিত হলেন এক মুসলিম!

muslim

সাম্প্রদায়িক বিভেদের এই অস্থির সময়ে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়ল ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের ভাদেরওয়া গ্রাম। নির্বাচন ছাড়াই ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রামের একমাত্র মুসলিম পরিবারের প্রধানকে পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে মনোনীত করলেন হিন্দু গ্রামবাসীরা।

মুসলিম পরিবারটিকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সবাইকে অসাম্প্রদায়িক বার্তা দেওয়ার জন্যও এই সিদ্ধান্ত বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে সেই গ্রামের অধিবাসীরা।

জম্মু ও কাশ্মীরে শুরু হয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই নজর কেড়ে নিল ভাদেরওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত। একটিমাত্র পরিবার ছাড়া গোটা গ্রামটাই হিন্দু।

সেই গ্রামেই কোনো ভোট ছাড়া সবাই এক জোট হয়ে পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন চৌধুরী মোহাম্মদ হুসেনকে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ৪৫০ সদস্যের এই গ্রামের এক মাত্র মুসলিম পরিবারের প্রধান তিনিই। আর সেই কারণেই তাকে মনোনীত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় গ্রামবাসী দুনিচাঁদ বলেন, ‘সারা দেশে আজ মেরুকরণ আর বিভাজনের রাজনীতি চলছে। সবাই তাই খুব অবাক হচ্ছে! কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা গর্বিত। আমরা একই পরিবারের অংশ হিসেবে নিজেদেরকে মনে করি।’

দুটি কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। প্রথমত, দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা হিংসার কারণে ভীত পরিবারটির পাশে থাকার বার্তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, সারা দেশের কাছে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

প্রতিবেশীদের এই সিদ্ধান্ত জানার পর থেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন ৫৪ বছরের মোহাম্মদ হুসেন। পশুপালনই তার পেশা।

পরিবারে আছে স্ত্রী এবং ৫ ছেলে। ৪ মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন আগেই। গ্রামবাসীদের সিদ্ধান্ত জানার পর তিনি বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান, তাই এ রকম প্রতিবেশী পেয়েছি। এই গ্রামের ভালোর জন্য আমি আমার জীবনও দিতে পারি। এই গ্রামের ভালো করাই এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য।’