খালেদা জিয়া পৃথিবীতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন

khaledaআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রায়ের আগে সংবাদ সম্মেলন পৃথিবীতে বিরল। বাংলাদেশেও এমনটা এর আগে হয়নি। তিনি রায়ের আগে সংবাদ সম্মেলন করে, মিথ্যাচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আদালতের বিরুদ্ধে যোদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের পর বুধবার সন্ধ্যায় আ’লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, এত হতাশ হওয়ার কী আছে, এই রায়ের পর, আপিল করার ব্যাপার আছে তা না হলে রাষ্ট্রপতি আছেন। আমাদের রাষ্ট্রপতি তো উদার তার কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি মাফ করে দিতে পারেন। আমি মনে করি তিনি মাফ করে দিবেন।

‘সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের বলেছেন যে, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনীতে তথা সমস্ত প্রশাসনিক জায়গায় তাদের লোক আছে তারা যেন ভয় না পায়। আমার কথা হল-তিনি এবং তার নেতারা তাহলে কেনো ভয় পাচ্ছেন? এসব কথা বলা যে, অন্যায় এটা ওকী তিনি বুঝে না?’ বলেন কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেত্রী বলেছেন এই রায় প্রধানমন্ত্রী লিখে দিয়েছেন। এটা কী আদালত অবমাননা নয়? তিনি বলেছেন, আদালত যতি ইতিবাচক রায় দেন তাহলে মেনে নেবেন না হলে আন্দোলন করবেন এই বক্তব্য রায়ের আগে দেয়া কী আদালত অবমাননা নয়?

‘রায়কে আইনীভাবে মোকাবেলা না করে, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে, আইনীভাবে মোকাবেলা কথা না বলে; অপরাজরনীতির কৌশল অবলম্বন করেছেন। নিজের অপরাধকে ঢাকার জন্য পুরো জাতিকে জিম্মি করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।’ বলেন কাদের।

‘আপনি নিরাপরাধী হলে আদালতে গিয়ে প্রমাণ করুন। আদালত তো কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। আদালত অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।’ যোগ করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জানমালের নিরাপত্তা দিতে আওয়ামী লীগ বদ্ধ পরিকর। আমরা কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করি না, প্রতিহিংসা করি না। কাউকে তা করতেও দেওয়া হবে না। তাদের বোঝা উচিত যে, ষড়যন্ত্র করে, সংবাদ সম্মেলনে মায়া কান্না করে সহিংসতা করে দুর্নীতি ঢাকা যায় না।

এই রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশের সংখ্যালঘু তথা সাধারণ মানুষের উপর হামলা হলে আওয়ামী লীগ কী ব্যবস্থা নিবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে কিছু ইনফরমেশন আছে। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রশাসন কাজ করছে। কোনো রকম অন্যায় আচরণ সহ্য না করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।

এসময় বিএনপির বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য দেশের জনগণের প্রতি আহবান জানান ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও আতংকের সৃষ্টি করা হয়েছে এটা তো আগে কখনো হয় নি। এবারই প্রথম। বিএনপি তাদের পুরোনো কৌশলে গিয়ে আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার উস্কানি দিচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তো মামলা হয়েছে। তিনি তো নিয়মিত আদালতে গিয়েছেন। জামিন নিয়েছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। তাহলে বেগম খালেদা জিয়া কেনো আইনের উর্ধ্বে উঠে যাবেন। তাহলে এই মামলার দায় নেবে ইয়াতীমরা?

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুকল বোস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবাহান গোলাপ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল, আনোয়ার হোসেন, রেমণ্ড আরো প্রমুখ।