কামাল ও ফখরুলের ঐক্যের দিনে নেই তাঁরা

oliযত না যুক্তফ্রন্টের ডাকা ঐক্যের ডাক— তা ছাপিয়ে আজ ছিল বিএনপির সাথে কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর এককাট্টা হওয়ার আনুষ্ঠানিক মিলন দিবস। বিএনপি সহ ২০ দলের জোটের শরীকদলগুলোকে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল। দাবী করা হচ্ছিল যে, জামায়াত ছাড়া সবাইকে বলা হয়েছে। কিন্তু একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হিসাবে মাওলানা ইসহাকের দলের মহাসচিব কুখ্যাত কাদের এর উপস্থিতি কামাল হোসেনের ইমেজকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে। এই সেই কাদের, যিনি একসময় ইসলামী ছাত্র শিবির এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের এক অংশের নেতা কাসেমীও।

এদিকে দেশের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের গ্রহনযোগ্য রাজনীতিক কর্নেল (অব:) অলি আহমেদকে জাতীয় ঐক্যের সভায় দেখা যায় নাই। তাঁর দলের কোন প্রতিনিধিকেও পাঠানো হয় নাই। একই পথ অনুসরণ করেছেন মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নাতি জেবেল রহমান গাণির বাংলাদেশ ন্যাপ। যে যাদু মিয়া একদিন নিজের দলকে স্থগিত করে জিয়ার বিএনপি গড়ার সেনাপতি ছিলেন।

শনিবার অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিমের কল্যান পার্টিকে দেখা যায় নি। সভায় যায়নি এমন দলের মধ্যে রয়েছে ন্যাশন্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিও। যার নেতৃত্বে আছেন খন্দকার গোলাম মরতুজা। রহস্যময় কারণে মুসলিম লীগকেও দেখা যায় নাই।

সূত্রমতে কর্নেল অলির নেতৃত্বে এলডিপি, ন্যাপ, কল্যান পার্টি, এনডিপি সহ আরো কয়েকটি দলের বোঝাপড়া চমৎকার পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির ভোটহীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিকট আত্মসমর্পণ করাকে তাঁরা ইতিবাচক চোখে দেখছে না। অথচ জোটের দুর্দিনে তাঁরা কখনই বিএনপিকে ছেড়ে চলে যেয়ে আপস করেনি কারোর সাথে। যুক্তফ্রন্টের উদ্যোক্তা মাহমুদুর রহমান মান্নার দল নাগরিক ঐক্যের তো নিবন্ধনই নেই।

অন্যদিকে খোদ বিএনপিতেও কামাল হোসেন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর এমন জোট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ও ছিল। বিএনপির মধ্যেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বহিছে। যেকোন মুহূর্তে তা সামনে চলে আসতে পারে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিএনপির জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের একজন নেতা প্রতিবেদককে বলেন, ” যতই কামাল হোসেন তারেক রহমানকে গালমন্দ করুক কিংবা জামায়াত বর্জনের কথা বলুন বাস্তবতা তেমন করে নয়। এই জোটের মুল লক্ষ্য, দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসানো। সেই কারণে কামাল হোসেন কিংবা মাহমুদুর রহমান মান্নাদের কোন সংসদীয় আসন না থেকেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে তাঁরা চালিয়ে যেয়ে শান্তিপূর্ণ হতে হতে তাঁরা একসময় নাশকতাকে পরিচিত করাবেন।”

ওই নেতা এও বলেন, বিএনপির সারাদেশের নেতারা মুলত নির্বাচন করতে চান কিন্তু এই ঐক্যের নামে জোট মুলত নির্বাচনমুখী নয়, নির্বাচন প্রতিহত করার শক্তি। যারা এর নেতৃত্বে আছেন বৈশ্বিক পরিমন্ডলে তাঁদের ইমেজ বেশ ভাল।

কর্নেল অলি সহ জোটের নেতৃবৃন্দ এই ঐক্যে না যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হল। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক আরো কিছু ঘটনা আগামী সপ্তাহ হতে শুরু হতে পারে। বিএনপির বড় অংশ ও কর্নেল অলি আবারো আলোচনায় চলে আসতে পারেন।