এ লজ্জা রাখিব কোথায়?

goniইউরোপের মাটিতে ৭১ এর পরাজিত শক্তি বিএনপি-জামাত একের পর এক দেশবিরোধী কর্মকান্ড করে চলেছে এবং ইউরোপ আওয়ামী লীগ নিরব দর্শক হয়ে উপভোগ করছে।

খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে খূণী তারেকের পরিকল্পনায় বিএনপি লন্ডনে যা ঘটালো তা সমগ্র বাংলাদেশের মাথা নিচু করে দিয়েছে।গতকাল  স্বাধীন বাংলাদেশের এক সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ত্রিশ লক্ষ শহীদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা অবমাননা করেছে ফিনল্যান্ড প্রাবাসী জামাতের সক্রিয় ক্যাডার আ.কদ্দুস।

স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে উপরোক্ত দুটি ঘটনা কোনভাবেই সহ্য করা সম্ভব না।তারপরেও পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা থামছেই না,তাদের দৃষ্ঠতা বেড়েই চলেছে।

আসলেই কি বিএনপি-জামাত ইউরোপে অপ্রতিরোদ্ধ?এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের ৭১ এ ফিরে যেতে হবে।মহান মুক্তিযুদ্ধে লন্ডন সহ সমগ্র ইউরোপের মুক্তিকামী প্রবাসীদের কুটনৈতিক যুদ্ধের গৌরব উজ্জল ইতিহাস থেকে বর্তমান ইউরোপ আওয়ামী লীগের অনেক শেখার আছে।

তৎকালিন মহাপরাক্রমশালী যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করেছিল।দেশপ্রেম ও ঐক্যবদ্ধতা ছিল মুজিব আদর্শের মুক্তিকামী প্রবাসীদের মূলমন্ত্র।তাদের ঐক্যবদ্ধতার জন্য তৎকালিন দেশ বিরোধীরা পালে পানি পেত না।কিন্তু বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কেন বার বার এমনটা ঘটছে? ইউরোপ আওয়ামী লীগের রাজনীতি পর্যবেক্ষন করেন এমন কয়েকজন প্রবীন ব্যাক্তির সাথে আলাপ করে জানা যায় শুধুমাত্র ব্যাক্তিস্বার্থ এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রবনতার জন্য ইউরোপ আওয়ামী লীগের আজ এই অবস্থা।

ইউরোপে আওয়ামী লীগের রাজনীতির দুরবস্থার জন্য দুইজন ব্যাক্তিকেই দুষছেন সবাই।অনিল দাশগুপ্ত ও এম এ গনির স্বেচ্ছাচারীতায় ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে আছে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ।সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক এম এ গনি টাকার বিনীময়ে একেক দেশে দুই তিনটা করে কমিটি দেওয়া শুধু তাই ই নয় বিএনপি-জামাতের সক্রিয় কর্মীদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে সাধারন আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীরা।

বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে ২০০৫ সালে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের নেতাদের কংগ্রেসে অংশগ্রহন করার পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পন্ডকারী আতাউর রহমান আতাকে বর্তমানে স্পেন আওয়ামী লীগের একতরফা সভাপতি বানিয়েছে এম এ গনি।

লক্ষ লক্ষ মুজিব সৈনিকের নয়নের মনি,আশা আকাঙ্খার প্রতিক দেশরত্ন শেখ হাসিনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পন্ডকারী যখন স্পেন আওয়ামী লীগের সভাপতি হয় তখন বুঝতে হবে গনি সাহেব কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে,বলে মন্তব্য করেছেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের এক নেতা।তিনি আরো উল্লেখ করেন গনির চারপাশে হাইব্রীড,নব্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা হত্যাকারী খুনি আসামীতে সয়লাব।গনি প্রদত্ত স্পেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রিজভী আহমেদের নামে অনুপ্রবেশের অভিযোগ থাকলেও তা সঠিক নয়।

রিজভি একসময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন,যদিও অজ্ঞাত কারনে তিনি তার পড়ালেখা শেষ করতে পারে নাই।গ্রীসে বাংলাদেশ কমিউনিটির অধিকাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে এম এ গনি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা মিজান ওরফে পাসপোর্ট মিজানকে সাধারন সম্পাদক ঘোষনা করেন।এই মিজান গ্রীস পুলিশের খাতায় একজন দাগী আসামী এবং বর্তমানে ১০ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

ইউরোপ আওয়ামী লীগের অপর একজন প্রভাবশালী যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শামীম হক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর ফরিদপুর তথা দক্ষিনবঙ্গ প্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে অনিল দাশগুপ্তের নেতৃত্ব দানের অযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অনুপস্থিতি সংগঠনের ভীতকে দূর্বল করেছে।তিনি সবার সামনে বলেন এক আর কাজ করেন ঠিক উল্টা।তিনি বিভিন্ন সময়ে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের গনি প্রদত্ত কমিটির সাধারন সম্পাদক ডাঃ বিদ্যুৎ বড়ুয়াকে খুনি এবং ঢাকা মেডিকেলের ভিপি পদের ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেন।

এমনও বলতে শোনা গেছে বিদ্যুৎ কিসের ভিপি?সে তোহ একটা খুনি।এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ডাঃ বিদ্যুৎ বড়ুয়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের নির্বাচিত ভিপি যদিও ছাত্রদল এই নির্বাচন বর্জন করেছিল।যে ব্যাক্তির নামে অনিল দাশগুপ্ত এত বাজে মন্তব্য করতেন সেই বিদ্যুৎ বড়ুয়াকেই শেখ হাসিনার ইতালি সফরের সময় অনিল দাশের সবচেয়ে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখা গেছে।

এতেই প্রমানিত হয় তিনি তার কথা এবং কাজের কোন মিল নেই।একমাত্র সভানেত্রীর ইউরোপ সফরের সময় সক্রিয় দেখা যায় তারপরে তাকে কর্মীরা হারিকেন দিয়েও খুঁজে পায়না।তিনি জার্মানে বসবাস করলেও প্রবাসী আওয়ামী লীগ অথবা বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন।২০০১ সালে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ গঠিত হওয়ার পরে একটি মাত্র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।১৮ বছরে মাত্র একটি বর্ধিত সভাই অনিল ও গনির দৈন্যদশা প্রমান করে।

অথচ বছরের পর বছর সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের পদ দখল করে আছেন এই অযোগ্য যুগল।রাজনীতিতে অযোগ্য নেতৃত্বের কোন স্থান নাই।অনিল দাশগুপ্ত ও এম এ গনি বর্তমানে ইউরোপ আওয়ামী লীগের বোঝা।তাদের কারনে নতুন নেতৃত্ব বিকাশিত হতে পারছে না এবং বিএনপি জামাতকে প্রতিহত করতে পারছে না।তাই দল,দেশ সর্বাপরি শেখ হাসিনার মঙ্গলের জন্য অবিলম্বে এই দুজন মহা বিতর্কিত ব্যাক্তিকে রাজনীতি থেকে অব্যাহতি দিয়ে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের কাছে সর্ব ইউরোপ আওয়ামী লীগের দায়িত্ব অর্পণ করা সময়ের দাবি বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।

লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিন জাতীয় পতাকায় ঢাকতে বাঁধা দেওয়া কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।জাতীয় জীবনে এই ঘটনা গুলো খুবই লজ্জার এবং এ লজ্জা রাখবার কোন জায়গা নাই।প্রবাসীদের উচিত হবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সকল দেশ বিরোধী কর্মকান্ড প্রতিহত করা।

লেখক : মোহাম্মদ আরিফ
ডেনমার্ক প্রাবাসী কলামিষ্ট