এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নেই ৪০ হাজার

govtএমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় এরই মধ্যে ৪০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। স্কুল-কলেজগুলো অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছে। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, মামলার জালে আটকে পড়ায় শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার দেওয়া যাচ্ছিল না দুই বছর ধরে। সেই ঝামেলা অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য পদের তালিকা ও চাহিদাপত্র নেওয়ার কাজও শেষ হয়েছে এরই মধ্যে। স্কুল-কলেজগুলোর চাহিদা পাঠানোর শেষ সময় ছিল গত ৩০ সেপ্টেম্বর। প্রায় ৩৮ হাজার ৮০০ শিক্ষকের চাহিদা পাওয়া গেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামছুল হুদা বলেন, ‘অসংখ্য মামলা জর্জরিত করে ফেলেছিল এনটিআরসিএকে। আগে উেকাচের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের অসংখ্য অভিযোগ ছিল। এতে মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া যেত না। সেই অবস্থা থেকে মুক্ত হতেই নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব এনটিআরসিএকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এনটিআরসিএকে অকার্যকর করতে নানা চেষ্টা করা হচ্ছে। আপাতত সংস্থাটি মামলার জট থেকে মুক্ত হয়েছে। আমরাও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। শিগগিরই শূন্য পদে শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।’

জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এনটিআরসিএ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। প্রথমে ২০০৫ সালে শুধু বেসরকারি শিক্ষকদের নিবন্ধনের জন্য প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল এই সংস্থা। কিন্তু ২০১৫ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও গভর্নিং বডির হাত থেকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কেড়ে এনটিআরসিএকে এ বিষয়ে সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর একবারই মাত্র নিয়োগের সুপারিশ করতে পেরেছিল সংস্থাটি। কিন্তু সেই সুপারিশও ছিল অনেকটা ভুলে ভরা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এতে কর্মরত আছেন প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষক ও প্রভাষক পর্যায়ে নিয়োগের সুপারিশ করার দায়িত্ব এনটিআরসিএর।

জানা যায়, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন এ এম এম আজাহার। কিন্তু তাঁর সময়ে এনটিআরসিএ তেমন একটা সাফল্য পায়নি। অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান করা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালকে। কিন্তু তিনি এই পদে যোগদান না করায় গত ১৬ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য এস এম আশফাক হোসেনকে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। অথচ গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে এ এম এম আজাহারকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাই বলছেন, এনটিআরসিএ কোন গতিতে এগোচ্ছে তা তাদের ওয়েবসাইট দেখেই বোঝা যায়। এক মাস আগে চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছে, অথচ তাদের ওয়েবসাইটে আগের চেয়ারম্যানেরই নাম দেখানো হচ্ছে। এমনকি কোনো সমস্যা বা আলোচনার জন্য তারা অন্য কোনো দপ্তরের সঙ্গে বসতে বা পরামর্শ নিতেও রাজি নয়। নিজেরা যা বোঝে সেভাবেই তারা কাজ চালায়।

এনটিআরসিএর একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা চলতি মাসের শেষ দিকে প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো যে চাহিদা দিয়েছে, সেখানে অসংখ্য ভুল। এক হাজার ৫০০ স্কুলের চাহিদায়ই ভুল রয়েছে বলে আমরা চিহ্নিত করেছি। এসব ভুল সংশোধনের কাজ চলছে। শিগগির আমরা টেলিটকের সঙ্গে বসব। তারা প্রস্তুত থাকলে আগামী মাসের শুরুতেই বিজ্ঞপ্তি আসবে।’

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশনার আলোকে প্রথম থেকে ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় রয়েছে ছয় লাখ চার হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে অনেকেই এরই মধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী নিয়োগে এসব প্রার্থীই আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বেসরকরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে নতুন বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হতে পারবেন।

জানা যায়, ১৪তম নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত ১৮ সেপ্টেম্বর। শিগগিরই ফল প্রকাশ করা হবে। এই পরীক্ষা শেষ করতেও এনটিআরসিএর প্রায় দেড় বছর লাগল। বর্তমানে ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কাজ চলছে।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ