এবার হোয়াটসঅ্যাপে রুটিন বাংকারে পরীক্ষা

seriaসিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে জীবন বাজি রেখে স্কুল চালাচ্ছেন সেখানকার শিক্ষকরা। স্কুলে যেকোনো সময় বিমান হামলার ভয়। আর তাই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে নেয়া হচ্ছে ক্লাস।

বিমান হামলা থেকে বাঁচতে মাটির নিচের বাংকারে নেয়া হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষাগুলো। প্রায় আট বছর ধরে চলছে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী।

আট বছরের এ যুদ্ধে ধ্বংসের দ্বরাপ্রান্তে উপনীত দেশটি। সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। এক কথায়, সিরিয়া এখন বিরান পোড়বাড়ী।

দ্য গার্ডিয়ান বৃহস্পতিবার বিশেষ এক প্রতিবেদনে জানায়, সিরিয়ার বেশিরভাগ স্কুল এখন পরিত্যক্ত। ওইসব স্কুলের শিক্ষকরা এখন পাড়া-মহল্লায় ছোট্ট ও অস্থায়ী স্কুল বসিয়েছেন। সেখানেই চলছে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেয়া।

ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও আগের থেকে অনেক কমে গেছে। তাদের অনেকেরই স্কুলড্রেস নেই। নেই বই-খাতা-স্লেট। খালি পায়েই অস্থায়ী স্কুলে আসে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার সবচেয়ে বড় প্রদেশ ইদলিব।

প্রদেশটির বেশিরভাগই এখনও আসাদ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যান্য এলাকা থেকে বহু উদ্বাস্তু এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখানে যেসব শিক্ষক পড়াচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বাস্তু।

ইংরেজির শিক্ষক আবদুল কাফি আলহামদু তাদের একজন। সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যতম বড় শহর আলেপ্পো থেকে পালাতে বাধ্য হন তিনি। অবরুদ্ধ আলেপ্পোয় কখনও বিধ্বস্ত ভবনে আবার কখনও বাংকারে ক্লাস নিতেন তিনি। ক্লাস চলকালে সব সময় একটা ভয়ের মধ্যে থাকতেন তারা।

বর্তমানে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত ইদলিবের একটি স্কুলে পড়ান তিনি। সেখানে আরও কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষা দিতে অসম্ভব সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। ইদলিবেও এখনও বোমা পড়ছে। আলহামদু বলেন, ‘এখানে সবসময় বোমা পড়ছে। এর সঙ্গেই আমরা বেঁচে আছি।’

তার মতে, ইদলিবের অবস্থা আলেপ্পোর মতো এতটা ভয়াবহ নয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন যখনই আমি স্কুলে যেতাম, আমি দেখে নিতাম আমার কোন ছাত্রটা কোন ছাত্রীটা আজ আসেনি। কে বেঁচে আছে, আর কে বেঁচে নেই। তারপর পড়ানো শুরু করতাম।’