এবার ফখরুলকে এক হাত নিলেন গয়েশ্বর

fakrul

সংসদে না যাওয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ দলে সমালোচনার মুখে।

তাকে এক হাত নিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দলের পাঁচ এমপি সংসদে গেলেও মির্জা ফখরুল কেন শপথ নেননি- তা নিয়ে অনেকের মতো তার মনেও খটকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারণী ফোরামের এই সদস্য।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের আলোচনা সভায় গয়েশ্বর রায় বলেছেন, ‘প্রশ্ন উঠেছে, সবাই পার্লামেন্টে গেল মহাসচিব গেল না কেন?

এটা আমার কাছেও খটকা লাগে, দলের সিদ্ধান্তে সবাই গেলে মহাসচিব যাবেন না কেন? আলাদা কারও ভালো থাকা বা আলাদা কারও হিরো হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি কেন সংসদে যোগ দিলেন না নিশ্চয়ই সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।’

fokrul‘দলীয় সিদ্ধান্তে’ বাকি এমপিরা শপথ নিলেও বিএনপি মহাসচিব কেন শপথ নেননি- তা এখনও রহস্যাবৃত।

বিএনপির কোনো নেতাই এ বিষয়টি খোলাসা করেননি। সংসদে যাওয়া বিএনপির এমপিরা বলছেন জনগণের চাপে তারা শপথ নিয়েছেন।

তবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২৯ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত বলেন, সরকারের চাপে দলের এমপিরা শপথ নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ঘনঘন সংবাদ সম্মেলন করে আলোচনায় থাকা রিজভীকেও এক হাত নেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ কেউ বেকুবের মতো বলছি, সরকারের চাপ।

জনগণের চাপ সত্য নাকি সরকারের চাপ? আমরা এলোমেলো কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছি।’

সংসদে যাওয়ার সঙ্গে বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র। তিনি দলের সবাইকে এক সুরে কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে এখানেই পার্থক্য।

শেখ হাসিনা যা বলেন, যে গ্রামে বিদ্যুৎ নেই সেখানকার চায়ের দোকানেও নেতাকর্মীরা ওই একই কথা বলেন। কিন্তু বিএনপির নেতারা একই বিষয়ে একেকজন একেক কথা বলেন। অর্থাৎ চিন্তা-ভাবনার সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এতে কর্মী ও জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কথিত কথোপকথনের সূত্র ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে, তখন প্রমাণ হয়, তিনি রাজনীতিতে একটি ‘ফ্যাক্টর’।

তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত। তাকে নিয়ে তাই আলোচনা-সমালোচনা হয়।

১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তিন দিনে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন। খালেদা জিয়া ১৪ মাসেও পাননি।

বিচারপতিদের সঙ্গে তো বিএনপির শত্রুতা নেই। তারা খালেদা জিয়াকে জামিন দিচ্ছেন না সরকারের নির্দেশে। সরকারের নির্দেশ না মানলে তাদের চাকরি থাকবে না।

তারেক রহমানকে যে বিচারক খালাস দিয়েছিলেন, তিনি আপাতত দেশে ফিরতে পারবেন, এমন সম্ভাবনা নেই।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নবীন দলের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ।

বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।