এবার কে কাকে স্যার বলবে?

jabedপুলিশের মহা পরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গত রোববার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই পদমর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু তাকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে পুলিশ বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখন দুটি বিভাগ। দুইজন সচিব। এর মধ্যে পুলিশ জননিরাপত্তা বিভাগের আওতাধীন। জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন। অথচ তিনি মন্ত্রণালয়ে যে বিভাগের প্রধান তার অধীনস্থ একটি অধিদপ্তরের প্রধান হলেন সিনিয়র সচিব।

জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক দুজনই ৮৪ ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা। ২০১২ সাল থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শক পদটি সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার করা হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একজন সিনিয়র সচিবকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব করার রেওয়াজ চলে আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই ভাগ হওয়ার আগে বর্তমান জনপ্রশাসন সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান সিনিয়র সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ বাহিনী স্বতন্ত্র একটি প্রতিষ্ঠান হলেও তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ। বাজেট থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে প্রতিনিয়ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হয় পুলিশ বাহিনীকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা সচিব সভাপতিত্ব করেন। সেখানে পুলিশ বাহিনীর প্রধানও থাকেন।

এখন আইজিপি সিনিয়র সচিব মর্যাদায় আর সচিব হলেন তাঁর থেকে পদমর্যাদায় জুনিয়র। সচিবালয়ে হাসিঠাট্টায় বলা হচ্ছে, ‘এখন কে কাকে স্যার বলবেন?’ উল্লেখ্য যে, ক্যাবিনেট সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, সেতু সচিব, সংসদ সচিব, অর্থ সচিব সিনিয়র সচিব মর্যাদায়। প্রশাসন ক্যাডারের পদ নয়, ব্যক্তির জৈষ্ঠ্যতা অনুযায়ী সিনিয়রটি দেওয়া হয়। সিনিয়র সচিবরা সবাই ৮২ ব্যাচের। তবে পুলিশ প্রশাসনে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দেওয়া হয় পদকে।

যদিও বলা হচ্ছে, এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু চেইন অব কমান্ডের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অস্বস্তি তৈরি করবে।