এবার ঐক্যফ্রন্টে ভাঙনের সুর!

KAMALসরকারের সঙ্গে এরই মধ্যে দুইবার সংলাপে বসেছে নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও সে সংলাপে আশা জাগনিয়া কিচু ঘটেনি। কিন্তু এরই মধ্যে এই জোটে শোনা যাচ্ছে ভাঙনের সুর। জোটের বড় রাজনীতিক দল বিএনপি তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা জোটের ওপর চাপাচ্ছে এমনই অভিযোগ জোটের অনেক নেতার। তাদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এমন চলতে থাকলে ঐক্যফ্রন্ট ভেঙেও যেতে পারে।

সূত্রগুলো বলছে, ৬ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে ড. কামাল হোসেনও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তবে ওই সমাবেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ায় সমাবেশ শেষে তিনিও ক্ষোভ জানিয়েছেন।

গণফোরামের এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মঙ্গলবারের সমাবেশে কোনো গণফোরাম নেতা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ কমিটির কাউকে মাইকই ধরতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বিএনপির দাবিকে গুরুত্ব দিতে ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি নিয়ে বক্তৃতা করতেও নিষেধ করা হয়। এই সমাবেশে একচেটিয়া প্রাধান্য ছিল বিএনপির। সমাবেশে বক্তাদের দাবিতেও বারবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তথা বিএনপির মূল দাবিই উঠে এসেছে, ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি নয়। ওই সমাবেশেই এক পর্যায়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনারা বিএনপির কথা ভুলে যান। বিএনপির কথা ভুলে না গেলে আমরা আগাতে পারব না। কারণ সরকার বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ।

এসব বিষয় নিয়ে গত ২০ অক্টোবর এক বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয় বলে জানা গেছে জোট সূত্র থেকে। শুধু তাই নয়, জোট নেতা ড. কামাল হোসেন বরাবর সার্বিক বিষয় তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন চিঠিও দেন

তিনি এ বিষয়ে বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ভাঙবে কি না, তা আমি জানি না। তবে আমি আমার অবস্থান ওই চিঠিতেই জানিয়েছি। আমি অসাম্প্রদায়িক মানুষ। আপাতত তাদের (ঐক্যফ্রন্ট) থেকে একটু দূরে এসেছি।

দূরে থাকার কারণ জানতে চাইলে মোস্তফা আমীন বলেন, আমাদের কথা ছিল যুগপৎ আন্দোলন করার, যুগপৎ কর্মসূচি ঘোষণা করার। কিন্তু এখানে তো সবাই বিএনপির কথাই বলছে। আমি তো ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি ঐক্যফ্রন্টের দাবি আদায়ের আন্দোলন করতে, বিএনপির দাবি আদায়ের জন্য তো এখানে আসিনি।

জোট নেতারা জানান, বিএনপি একচেটিয়া প্রভাব খাটাচ্ছে। কারণ ড. কামাল হোসেনের জনবল নেই। একইভাবে আ স ম আবদুর রবের জেএসডিসহ জোটের অন্য দলগুলোরও লোকবল নেই। কিন্তু বিএনপির সেই জনবল আছে। সেই সুযোগটিই এখানে কাজে লাগিয়ে সবকিছু নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বিএনপি।

গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুরুতেই বাদ দেওয়া হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারাকে। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা হয়ে ওঠেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।-জুমবাংলানিউজ