এক কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮১৯টি, ইভিএম দেখাচ্ছে ৮৬৪

evm

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ঘটেছে লঙ্কাকাণ্ড।ভারতের মধ্যপ্রদেশে  রাজ্যের শাহদল জেলায় গত সপ্তাহে এক ভোটকেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে যতোটি ইভিএম মেশিন তার চেয়ে ৪৫টি ভোট বেশি দেখাচ্ছে!

এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্কের। জেলার জয়েতপুর আসনের বুধার টাউন ভোটকেন্দ্রের পোলিং কর্মকর্তা বলছেন, তার কেন্দ্রে তিনি মোট ৮১৯ জন ভোটারের নাম ম্যানুয়াল রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি করেছেন। ওই কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল।

কিন্তু দিন শেষে যখন ইভিএম মেশিনে ভোট গণনা করতে গেলেন, তখন দেখেন মোট ভোট পড়েছে ৮৬৪টি!

তাৎক্ষণিকভাবে বিরোধীদল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এক সিনিয়র নির্বাচনী কর্মকর্তা বলেছেন, ওই কেন্দ্রে ম্যানুয়াল রেজিস্ট্রার আর ইভিএমের গণনায় ৪৫টি ভোটের হেরফের হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশনের কাছে পাঠিয়েছি।’

তবে তিনি দাবি করেন, ভোটগ্রহণের আগে প্রিসাইডিং অফিসার যে ট্রায়াল করেছিলেন তার তথ্য মুছতে তিনি ভুলে গিয়েছিলেন।

পরে মূল ভোট শুরু হওয়ার পর সেটার সাথে আগের ট্রায়াল ভোটগুলোও যোগ হয়ে এই বাড়তি সংখ্যক ভোট দেখাচ্ছে।

এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দুজন কর্মকর্তাকে বদলিও করা হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশে আগামী সপ্তাহেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কিন্তু রাজ্যটিতে ভোট অনুষ্ঠানের আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পরীক্ষা করার সময় কর্মকর্তারা দেখতে পান, যন্ত্রটিতে যে কোনও বোতাম চাপলেই শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি’র নির্বাচনী প্রতীক আঁকা স্লিপ বের হয়ে আসছে।

দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দিল্লি থেকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হবে।

কর্মকর্তাদের ইভিএম পরীক্ষা করার এ ভিডিওটি গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইভিএম-এ এমন অদ্ভুত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।

এছাড়াও দুজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের দুটো প্রতিনিধি দলও পাঠানো হচ্ছে মধ্যপ্রদেশে।

৯ই এপ্রিল ভোটগ্রহণের শুরু থেকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত এ দল দুটো মধ্যপ্রদেশেই থাকবে বলে জানিয়ছে নির্বাচন কমিশন।

ভারতের বিন্দে প্রদেশে ইভিএম পরীক্ষার সময়ই গন্ডগোল ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ওই প্রদেশের নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরত কমিশনের একজন কর্মকর্তা ও একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসারকে অন্য জায়গায় বদলি করে দেয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

যদিও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানায়নি।

গত মাসেই ভারতের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দেশটির নির্বাচনে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলে।

প্রায় দুই দশক আগে ভারতের নির্বাচনে প্রথম ইভিএম ব্যবহার করা হলেও এখন কয়েকটি রাজনৈতিক দল অভিযোগ করছে ইভিএম-এ ভোট জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে।

মধ্যপ্রদেশে ইভিএম- এ এমন গন্ডগোল ধরা পড়ার পর মি: কেজরিওয়াল বলেন “তিনি শুরু থেকেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের বিরোধী।

যখন পুরো বিশ্ব নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবহার করছে, তাহলে আমরা কেন এটা ব্যবহার করবো?”

সদ্য সমাপ্ত উত্তরপ্রদেশের ভোটে ইভিএম -এ ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনেন বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী।

তারপরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং দিল্লির কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেনও অভিযোগ করেন যে ইভিএম-এ কারচুপি করা সম্ভব।

তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন বরাবরই বলে আসছে, ভোট যন্ত্রে কারচুপি করা সম্ভব নয়। আর দেশের সব ভোটে ইভিএম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।