হাতে হাত রেখে স্বামী স্ত্রী সন্তান একসাথেই চলে গেলেন ওপারে

riya

রিয়া ও রিফাতের দুর্ঘটনার কথা ইতিমধ্যে সবাই জানে।
গর্ভবতী স্ত্রী রিয়া কে মৃত্যুর ফাঁদে একা রেখে চলে যাননি।হাতে হাত রেখে স্বামী স্ত্রী সন্তান একসাথেই চলে গেলেন ওপারে।

আমি ভাবছিলাম আগুন লাগার অবস্থায় তাদের কি পরিস্থিতি ছিল!
হয়তো রিয়া বলছিল,রিফাত তুমি যাও।

আর রিফাত রিয়ার দুই চোখের দিকে দেখে নিজের চোখে পানি ও হয়তো আটকে রাখতে পারেনি আর হয়তো বলেছিল আমি তোমাদের রেখে কোথাও যাবো না।

ভয় পেয়ো না আমি সাথে আছি আমার হাত ধরো ।
কারণ রিফাত ভুলে যায়নি যে রিয়া সবকিছু ত্যাগ করে তার হয়েছে এবং তার গর্ভে তার সন্তান।

সে তার দায়িত্ব পালন করেছে তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। সত্যি রিফাত চলে যাওয়ার আগেই হয়তো একটি শিক্ষা সব পুরুষকে দিয়ে গেলো।

রিয়া ও রিফাত বিয়ে করেন বছর দুয়েক হল। আর কদিন পরেই প্রথম সন্তানের মুখ দেখতেন তারা। সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন রিয়া।

সন্তানের জন্য ছোট্ট ছোট্ট কাথাও সেলাই করে রাখছিলেন। আর প্রথমবার বাবা হওয়ার উন্মাদনা কাজ করছিল রিফাতের মধ্যে।

কিন্তু পুরান ঢাকার চকবাজারের আগুন কেড়ে নিল সব কিছু। রিয়া-রিফাতের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্নও পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। সঙ্গে তারাও।

রিয়া-রিফাত বন্ধু ছিলেন। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। প্রেম থেকে বিয়ে করেন বছর দুয়েক আগে।বিয়ের পর সন্তান আসে রিয়ার পেটে।

সেই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সময়ও ঘনিয়ে আসছিল।কিন্ত সেই সন্তানের মুখ দেখার স্বাধ আর পূরণ হল না এই তরুণ দম্পতির।

চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের ‘ওয়াহিদ ম্যানশন’ ভবনের তৃতীয় তলায় স্ত্রী রিয়াকে নিয়ে থাকতেন রিফাত।

বুধবার রাতে আগুন লাগার পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ভবন থেকে নামতে পারেননি, তাই নামেননি রিফাতও। গর্ভের সন্তানসহ দুজনেরই আগুনে পুড়ে হয়েছে করুণ মৃত্যু।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে মরদেহ শনাক্ত করতে আসা রিয়া ও রিফাতের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

রিয়া ও রিফাতের বন্ধু আল-আকসার সাজিদ জানান, ওয়াহিদ ম্যানশন ভবনের যে বাসায় রিয়া ও রিফাত থাকতেন তা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

সেখানে গিয়ে তাদের না পেয়ে সোজা ছুটে এসেছেন হাসপাতাল মর্গে। তিনি জানান, চেহারা দেখে মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সাজিদ জানান, রিয়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ছাড়াও নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিল। আগুন লাগার পর রিফাতের পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। কিন্তু রিয়াকে নিয়ে নামতে পারছিল না বলেই রিফাতও নামেননি। দুজনই পুড়ে মারা যায়।

সাজিদ জানান, এ খবর শুনে রিয়ার পরিবারের লোকজনও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রিফাতের পরিবারের লোকজন এসেছেন। তারা লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত লাশ শনাক্ত করা যায়নি।

প্রসঙ্গত রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবনে বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে আগুন লাগে।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের ভয়াবহতা কিছুটা কমলেও আবারও বেড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট একযোগে কাজ করে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

উদ্ধার অভিযান চলে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। এ ঘটনায় অন্তত ৭০ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন ৪১ জন।