আমার মরদেহের অঙ্গগুলো ২৫০ বেডে দান করলাম

‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার পোস্টমর্টেম করো না। আমার মরদেহের যে অঙ্গগুলো কাজে লাগে তা আমি ২৫০ বেড হাসপাতালে দান করে গেলাম। আমার টাকা-পয়সাগুলো মাকে দিয়ে গেলাম। তার ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা আমার নেই। ইতি তোমার অবাধ্য মেয়ে। বি.দ্র. শান্ত মাথায় মৃত্যুর পথ বেছে নিলাম। সবাইকে ক্ষমা করে গেলাম।’

সোমবার রাতে খুলনায় উপরোক্ত কথাগুলো সুইসাইড নোটে লিখে ইস্মিতা মণ্ডল (৩১) নামে এক কলেজ শিক্ষিকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

রাতেই মহানগরের বয়রার (২৫০ বেড হাসপাতালের কাছে) ভাড়া বাসা থেকে ওই শিক্ষিকার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ইস্মিতা মণ্ডল (৩১) খুলনার সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের শরীর চর্চা বিভাগের শিক্ষিকা। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলার কিসমত ফুলতলা গ্রামের অশ্মিনী মণ্ডলের মেয়ে।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. মমতাজুল হক জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খবর পেয়ে ছোট বয়রা এলাকার মোজাফ্ফরের ভাড়া বাসায় শিক্ষিকা ইস্মিতা মণ্ডল ও তার ছোট বোন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স সুস্মিতা থাকতেন।

সোমবার বিকালে তার বোন কাজে বাইরে গেলে ফিরে এসে দরজা বন্ধ দেখেন। অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় আশপাশের লোকজন ডেকে দরজা ভেঙে ফেলেন।

ভেতরে গিয়ে দেখেন সিলিংফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস অবস্থায় তার বোন ইস্মিতা ঝুলে আছে। এর পর তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে কি কারণে শিক্ষিকা ইস্মিতা মণ্ডল আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি।

নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। ওই সুইসাইড নোট পড়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।