আজানের সুমধুর ধ্বনি শুনে কান্না করলেন নিউজিল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা

kanna

আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। নীরবে দাঁড়িয়ে তা শুনছেন শতাধিক ছাত্রছাত্রী।

কারো মুখে কোনো কথা নেই। কারো নেই কোনো কাজের ব্যস্ততা। আজান শুনছে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ।

এভাবেই আজান শুনছিলেন নিউজিল্যান্ডের ক্যান্টারবেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্রাইস্টচার্চে।

গত শুক্রবার ওই শহরেই দুই মসজিদে ঢুকে নির্বিচারে গুলি করে এক দুর্বৃত্ত। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ওই হামলায় নিহতদের স্মরণেই ক্যান্টারবেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শতাধিক শিক্ষার্থী ওই আজান শোনে।

এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা নীরবে দাঁড়িয়ে ওই আজান শুনছেন আর আজানের প্রতি সম্মান দেখাচ্ছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, আজান চলার সময় নিজেদের মধ্যে একবারও কথা বলেননি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা নীরবে দাঁড়িয়ে ওই আজান শুনছেন আর আজানের প্রতি সম্মান দেখাচ্ছেন।

এদিকে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে নৃশংসতার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্নের দরদি চেহারা বিশ্ব দেখেছে।

হতাহতের ঘটনায় শোকার্ত মুসলিমদের তিনি বুকে টেনে নিয়েছেন। অভয় দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা তোমাদের শোকের সাথী হয়তো হতে পারব না। কিন্তু, কথা দিচ্ছি, একসঙ্গে আমরা অনেকটা পথ হাঁটব।’

শুরু থেকেই পোশাকেও জেসিন্ডা থেকেছেন নির্মোহ। নিজেদের সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে মুসলিম কমিউনিটিতে হাজির হয়েছেন মাথা ঢেকে।

মঙ্গলবার জেসিন্ডার দরদি মানবতার আরেক চেহারাও দেখল বিশ্ব।

গত ১৫ মার্চের নৃশংসতার স্মরণে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে জাসিন্ডা তার বক্তব্য শুরুই করেন আরবিতে, ‘আসসালামু আলাইকুম (অর্থ: আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)’ বলে।

শুধু তাই নয়, এদিন নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী মুসলিম ছাড়াও অন্য বিশ্বাসের অনুসারিদের সংসদে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা নিজ ধর্মের বেশে সংসদে প্রবেশ করেন।

পরে প্রথমে মুসলিমদের জন্য সংসদে নামাযের ব্যবস্থা করে দেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন। এরপর বাকি ধর্মের অনুসারিরাও প্রার্থনা করেন।

ভিডিও দেখুন এখানে-