অলৌকিক ভাবে অক্ষত সেই মসজিদ থেকে ভেসে আসছে কান্নার আওয়াজ

mosjid

যখন নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া হচ্ছিল, তখন কান্নার রোল পড়ে যায়। ডুকরে কাঁদতে থাকেন শত শত মানুষ।

নিহতদের বহুজনকে এরা হয়ত কখনো দেখেননি, কিন্তু এমন মৃত্যু সবাইকে নিকটজন বানিয়ে দিয়েছে। অচেনা মানুষদের জন্য হৃদয় ভেঙে গেছে তাদের।

মসজিদ থেকে প্রতিটি মুসল্লিকে বের হতে হতে চোখের জল মুখতে দেখা গেছে। একজন কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, ‘আল্লাহ এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা পাঠিয়েছে এই এলাকায়। এ থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে।’

হামিদুর রহমান নামে একজন বলেন, ‘শুধু এই মসজিদ নয় গোটা বাংলাদেশ এ মর্মান্তিক ঘটনার দোয়া মোনাজাত হয়েছে।’

আরেক মুসল্লি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের মাতম। কিছুদিন আগে যার সাথে একসাথে চলাফেরা করত আজকে তার দেহটা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না তাই প্রতিবেশীরা এ ঘটনায় খুবই ভারাক্রান্ত।’

chokbazer

চকবাজারে চুড়িহাট্টা মোড়ে আগুনে প্রাণ হারানো মানুষদের জন্য দোয়ার আয়োজন রূপ নিল কান্নায়। শত শত মানুষের চোখ দিয়ে পানি ঝড়েছে।

বুধবার রাতে লাগা এই আগুন কেড়ে নিয়েছে সরকারি হিসেবে ৬৭ জনের প্রাণ। আর এদের আত্মার শান্তির জন্য শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোনাজাতের আয়োজন করা হয় মসজিদে মসজিদে।

যে এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার পাশেই চুড়িহাট্টা জামে মসজিদ। প্রতি শুক্রবারই জুমার নামাজে সেখানে বিপুল পরিমাণ মুসল্লি নামাজ পড়তে আসেন। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

মুসল্লিদের সবার জায়গা হয়নি মসজিদে। ফলে পাশের সড়কে বসেও তারা নামাজ পড়েন। পরে অংশ নেন মোনাজাতে।

এলাকার আবদুর রশিদ জানান, মসজিদের নিচে পিকআপ ভ্যানে থাকা সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকে পুরো চুড়িহাট্টা এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা।

মসজিদের মোতোয়ালি আবদুর রহমান বলেন, এটি একটি বিস্ময়কর ঘট্না। আল্লাহর ঘর আল্লাহ রক্ষা করেছেন। মসজিদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য। আল্লাহর অপার করুণা। মসজিদের নিচে থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু আল্লাহর রহমতে মসজিদের কিছুই হয়নি।

এর মধ্যে ব্যতিক্রম শুধু চুড়িহাট্টা জামে মসজিদ। জনমনে গভীর বিস্ময় জাগিয়ে মসজিদটি অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।