অবশেষে ভোট নস্যাতে সক্রিয় দুই শতাধিক আইডি শনাক্ত

fbপ্রচার কাজে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার আজকাল ব্যাপক। , ফেসবুক, ইউটিউব, নিউজ পোর্টালসহ অন্যান্য ডিজিটাল গণমাধ্যম ব্যবহার করেই প্রায় ৪০ শতাংশ প্রচার-প্রচারণা চলছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সুযোগে দুষ্কৃতকারীরা নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ ঘোলাটে করতে এসব মাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহলটি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সরকারি স্থাপনা, পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভিডিওও আপলোড করছে। চালাচ্ছে নানা উসকানিমূলক অপপ্রচার।

পুলিশ এরই মধ্যে দেশের গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী এ অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত দুই শতাধিক আইডি শনাক্ত করেছে। অপপ্রচার ও গুজবের সঙ্গে জড়িত এসব আইডি বন্ধ করা এবং উসকানিমূলক বক্তব্য সরিয়ে ফেলতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিস) পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। গুজব ছড়িয়ে সহিংসতার চেষ্টার অভিযোগে সম্প্রতি পাঁচজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

কথা হয় সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আইন অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে এই সুযোগে কাউকে অপপ্রচার চালাতে দেবে না পুলিশ। তিনি বলেন, পুলিশ গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী। এখানে দল বা কোনো মতের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান নয়। যারাই গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবম-দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবারের নির্বাচন একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রায় ৪০ ভাগ প্রচার চলছে অনলাইনে। নির্বাচনে এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই মাধ্যমটি নেতিবাচক ও ইতিবাচক যে কোনো ভাবেই ব্যবহৃত হতে পারে। তাই নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে মাঠে নজরদারির পাশাপাশি সাইবার মনিটরিং ও পেট্রোলিংয়ে জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জনবল ও দক্ষতা বাড়াতে বড় বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ বলছে, গুজব-অপপ্রচার চালিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা পুলিশসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। গুজব ছড়িয়ে সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচনকে যাতে কেউ বিতর্কিত করতে না পারে সেজন্য পুলিশ, র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিট, ডিএমপির সাইবার ক্রাইম বিভাগের প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক অনলাইন মনিটরিং করছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা ঠেকাতে উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর নজরদারি চলছে।

পুলিশের জঙ্গি দমন ইউনিট-সিটিটিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গিরা গণতন্ত্র ও ভোটে বিশ্বাস করে না। তাই কোনো জঙ্গি সংগঠনও গুজব ছড়িয়ে সহিংসতা করতে পারে। এমন শঙ্কা থেকে জঙ্গি সংগঠন ও তাদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব মাধ্যমকে নজরদারির মধ্যে রেখে রাষ্ট্রবিরোধী কনটেন্ট প্রচারিত হলে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে কাজ করা হচ্ছে। রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক প্রচার করতে দেয়া হবে না বলেও জানান ওই কর্মকর্তারা।

একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, গুজব-অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথমত সাইটগুলো চিহ্নিত করা এবং যেসব সাইট বা আইডি থেকে অতিমাত্রায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোকে ডিফিউজ করা হচ্ছে। সর্বশেষ এসব গুজব-অপপ্রচারের নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।