অবশেষে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সুখবর দিল সরকার

tipu

পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোতে কোনো বৈষম্য বা অসঙ্গতি থেকে থাকলে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তা সংশোধন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত গ্রেডিংয়েই বেতন পাবেন শ্রমিকরা।

টানা তিন দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ নিরসনে ০৮ জানুয়ারি শ্রম ভবনে আয়োজিত পোশাক শ্রমিক-মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে এ সমস্যা সমাধানে কমিটিও গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের পাঁচ জন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাঁচজন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব থাকবেন।

এই কমিটি চলতি মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোর কোনও গ্রেডের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দেবে।

এ বৈঠকে শ্রমিকদের আন্দোলন ছেড়ে নিজ নিজ কারখানার কাজে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী। এরপরেও কেউ যদি রাস্তায় আন্দোলন করেন তাহলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

টিপু মুনশি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোতে কোন বৈষম্য বা অসঙ্গতি থেকে থাকলে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সংশোধন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত গ্রেডিংয়ে বেতন পাবেন শ্রমিকরা।

বৈঠকে গুজবে কান না দিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহবান জানান মন্ত্রী। তারপরেও কেউ যদি আন্দোলন করেন তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে পূরণ করা হবে। বেতন কাঠামোতে কোনো বৈষম্য থাকলে তা দূর করা হবে। এখন কেউ বেতন কম পেলে পরের মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়া হিসেবে তা পরিশোধ করা হবে।

প্রসঙ্গত, পোশাক শ্রমিকরা বলছেন, নতুন বেতন স্কেল হওয়া সত্বেও তাদের অধিকাংশের বেতন তেমন বাড়েনি। গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে আট হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সভায় ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।শ্রমিক প্রতিনিধিরা ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছিলেন।

অন্যদিকে মালিকপক্ষ ৭ হাজারের বেশি দিতে রাজী হচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে মালিকরা নূন্যতম মজুরি ৮০০০ টাকা নির্ধারণে রাজি হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নতুন মজুরী কার্যকরের কথা থাকলেও মালিকপক্ষ সেটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।

বেতন-ভাতা পরিশোধ, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা তিন দিন ঢাকার রাস্তায় পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। এরই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় গার্মেন্ট মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠক ডাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।