অবশেষে জানা গেল ৩৮ হাজার ৮০০ শিক্ষককে যেভাবে নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ

ntrcaবেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) ৩৮ হাজার ৮০০টি শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা পেয়েছে। এখন চলছে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। আগামী এক মাসের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে এনটিআরসিএ সূত্র।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই ১-১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার তালিকা থেকে অপেক্ষমান প্রার্থীদের মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে। আগামী মাসেই এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী এবার জেলাভিত্তিক মেধা তালিকার পরিবর্তে জাতীয় মেধা তালিকার মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে । ফলে এক জেলার নিবন্ধিতরা অন্য জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুযোগ পাবেন।

মহানগর ও জেলা শহরের পৌর এলাকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট শিক্ষক পদের ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ নারী শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক রয়েছে। একই উপজেলায় মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন নারী কোটার হার থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হিসাব বের করতে ভুল হয়ে যায়। যে কারণে একই হারে মহিলা কোটা (যেমন ২০, ২৫ বা ৩০ শতাংশ) নির্ধারণ করলে নিয়োগ কার্যক্রম সুচারুভাবে করা সহজ হবে।

শরীর চর্চা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরুষ শিক্ষক এবং পুরুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক নিয়োগ দিলে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মহিলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরুষ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপত্তি করে। যে কারণে পুরুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরুষ এবং নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শরীর চর্চা শিক্ষক নিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

অপরদিকে এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, দুই দফা সময় দিয়ে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শূন্য পদের তালিকা পাঠানোর শেষ সময় ছিল। সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ে ৩৮ হাজার ৮০০ জন শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা পেয়েছে এনটিআরসিএ। নিয়োগের জটিলতা এড়াতে এখন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো যাচাই-বাছাই করবে এনটিআরসিএ। তালিকা চূড়ান্ত করার পরে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর সফট ওয়ারের মাধ্যমে জাতীয় মেধা তালিকা অনুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ।

এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য পদের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো এসেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ অনুযায়ী নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষক নিয়োগ দিতেন। এ নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালে প্রথম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা চালু করা হয়। এরপরে ১২টি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ জন পাস করে। এর মধ্যে চাকরি পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৩২২ জন। এনটিআরসিএ শুধু পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিতো। আর চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আগের মতোই ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকায় নিয়োগ ব্যাণিজ্য অব্যাহত ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর এনটিআরসিএ আইন সংশোধন করে মেধা তালিকার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ চালু করে। ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রথমবারের মতো জাতাীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

প্রথম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধ পরীক্ষায় পাস করেও চাকরি না পেয়ে আদলতে ৩৫টি মামলা করেন বঞ্চিতরা। মামলার কারণে গত দুই বছর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিযোগ আটকে আছে। আদালত নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করাদের মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের রায় দিয়েছেন। রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এনটিআরসিএ ছয় লাখ চার হাজার ৬৮৫ জনের মেধা তালিকা প্রকাশ করে।

সূত্র ঃ বাংলাদেশ জার্নাল