অবশেষে জানা গেল সুবর্ণা মুস্তফার এমপি হওয়ার আসল কারন

suborna mostofaসংরক্ষিত মহিলা আসনের ৪৩ জন নারীর মনোয়ন ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেখানে স্থান পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নারী সুবর্ণা মুস্তফা।

মনোয়নের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে সুবর্ণা মুস্তফাকে কেন সংরক্ষিত আসনের এমপি করা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে যেতে হবে প্রায় ৪০ বছর আগে। গেলে উঠে আসবে এমন দুটি ঘটনা, যা শোনার পর আর এই প্রশ্ন আপনার মনে আসবে না।

১৯৮০ সাল, জিয়াউর রহমান ও তার বিএনপি ক্ষমতা। ২৬ মার্চ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধের নাটক নির্মাণ হবে। নাটকটির প্রযোজক ছিলেন প্রয়াত জিয়া আনসারী। নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য সুবর্ণা মুস্তফাকে ডাকা হয়।

নাটক ও সিনেমার ধুন্দুমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। জনপ্রিয়, হার্টথ্রুব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাই বলেন সব খ্যাতিই তখন তার ছিল। তার সঙ্গে নাটকটিতে অভিনয়ের কথা প্রয়াত হুমায়ূন ফরিদীর। তাকেও ডাকা হয় মিটিংয়ের জন্য।

নাটকটির গল্পটি ছিলে এমন, সুবর্ণার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে যাচ্ছেন। তখন সুবর্ণার সংলাপ প্রেমিকের উদ্দেশ্যে, ‘জিয়া আমাদের নেতা। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তুমি যুদ্ধে যাও। দেশকে স্বাধীন করো। ঝামেলা এখানেই। সুবর্ণা মুস্তফা এই সংলাপ বলতে অস্বীকৃতি জানালেন।

প্রযোজকের মুখের উপর তিনি বললেন, ‘জিয়াউর রহমান কখনো আমাদের নেতা ছিলেন না। এরকম বিকৃতির ইতিহাসের নাটক সুবর্ণা মুস্তফা করে না। তাৎক্ষণিক তিনি ওইমুহুর্তে টেলিভিশন থেকে বের হয়ে আসেন সুবর্ণা মুস্তফা।

এরপরের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৪ সালে। স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায়। বিজয় দিবসের নাটক নির্মাণ হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য। বরকতউল্লাহ ছিলেন এর প্রযোজক। রাইসুল ইসলাম আসাদ ছিলেন তার বিপরীতে।

নাটকটির একটা সংলাপে বলতে হবে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। যখন সেটা তার চোখে পড়ে। একমূহুর্ত অপেক্ষা না করে নাটকটি করতে অস্বীকৃতি জানান।

সরাসরি বলে দেন, যেদিন ‘জয় বাংলা’ বলে মুক্তিযুদ্ধের নাটক করতে পারবেন, সেদিন আমাকে ডাকবেন।

আ’লীগের নাম ঘোষণার পরে যখন প্রশ্ন আসে সুবর্ণা মুস্তফা কবে আওয়ামী লীগ করেছেন? তখন প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করার দরকার নেই। এই ঘটনা দুটির উদাহরণ দেন।

উদাহরণ দিয়ে বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাদের সবসময়ই আমি মূল্যায়ন করি।’