অবশেষে জানা গেল গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির হেরে যাওয়ার আসল কারন

bnpখুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হারের পর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। অনেকে এ হারের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ে অদক্ষতা, দলীয় কোন্দলকে দায়ি করলেও বিষয়টি মানতে নারাজ বিএনপির হাইকমান্ড।

তারা জানান, সরকার নতুন কৌশল অবলম্বন করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করছে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তারা ভোট চুরি করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বিডি২৪লাইভকে বলেন, দেশের বৃহত্তম দুটি বড় দলের মধ্যে বিএনপি অন্যতম। আর এত বড় দলের মধ্যে চাওয়া পাওয়ার দ্বন্দ্ব থাকবে এটা বড় কোনো বিষয় নয়।

তিনি বলেন, দলের এই ক্রান্তিকালে গাজীপুর সিটি নির্বাচন তো কোনো একক ব্যক্তির নয়। এটা পুরো বিএনপির অস্তিত্বের বিষয়, টিকে থাকার বিষয়। এখানে বিএনপির যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা হলো বর্তমান সরকার প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে তারা তাদের ঘরে সফল তুলেছে।

তিনি আরো বলেন, আমারা বার বার দাবি জানিয়েছি গাজীপুরের এসপি হারুনের প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে। কিন্তু সেসব জায়গায় নির্বাচন কমিশন নিরব ভূমিকা পালন করেছে।

নির্বাচনের দিন বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে মানুষ ভোট দিতে না পেরে ফিরে গেছে। আবার অনেক জায়গায় বিএনপির কোনো এজেন্ট চোখে পড়েনি। আবার চোখে পড়লেও তাদের কেউ ব্যাজ পরিহিত ছিলো না। কোনো কোনো কেন্দ্রে বলা হয়েছে বিএনপির এজেন্টরা সকালে এসেছিলো এবং পরে চলে গেছে। আবার অনেক জায়গায় তারা আসেইনি। অন্যদিকে প্রতিটি কেন্দ্রেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীদের সক্রিয় দেখা গেছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে নতুন কৌশলে খুলনায় ভোট ডাকাতি করেছিলো সেই প্রক্রিয়ায় আবারো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, এই ফলাফলের মাধ্যমে সরকার আবার প্রমাণ করলো তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নির্লজ্জভাবে একের পর এক নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করছে। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাজীপুরের নির্বাচনে আর এক কলঙ্কময় অধ্যায় সংযোজন করলো।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হতেই ধারাবাহিকভাবে প্রায় প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নজীরবিহীন ভোট ডাকাতির মধ্যদিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে এবং প্রমাণ করেছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধীন মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের ফলে আওয়ামী সরকারের অধীনে নির্বাচন কখনই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গণগ্রেফতার, সাদা পোশাকের পুলিশ দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, ভাংচুর, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকতে না দেওয়া, নির্বাচনের আগের রাত হতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে নৌকায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স বোঝাই করা, নির্বাচনের দিন এজেন্টদের জোর পূর্বক বের করে দেওয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের প্রার্থী ও দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে ক্রমাগত অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন কোন কিছুই আমলে নেয়নি। বিশেষ করে গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও নির্যাতনের বিষয়ে বার বার অভিযোগ করেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নির্বাচন কমিশন তাদের নিজেদের আইন কখনই প্রয়োগ করে নাই। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় সরকার গাজীপুরে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা রাষ্ট্রের সকল যন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। এই নির্বাচন নির্বাচনের নামে শুধুমাত্র একটি তামাশা হয়েছে। ভোট ডাকাতির নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করে তা প্রয়োগ করেছে।

গাজীপুর নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীর্ষের পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিডি২৪লাইভকে বলেছেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগ করেনি, করেছে পুলিশ ও ডিবির একটি অংশ। আর তাদের সহযোগী ছিলো নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এখন আর নির্বাচন করতে হয় না। তাদের কাজ ডিবি, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ করে দেয়।

খসরু বলেন, দেশের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্টেটস ধ্বংস হয়ে গেছে। এভাবে চললে চিরতরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। দেশ শাসিত হবে অবৈধ সরকার দ্বারা আর অবৈধ স্থানীয় প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে একাতবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিএনপি এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

এ বিষয়ে হাসান উদ্দীন সরকার বিডি২৪লাইভকে বলেন, গাজীপুরের ইতিহাসে মানুষ এত বড় ভোট ডাকাতি আর কখনো দেখেনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের রাত থেকেই তার কর্মী, সমর্থকদের ধরপাকড় করা হয়েছে। নির্বাচনী এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ভোটের দিন প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনে নৌকা মার্কার ব্যাজ পরিহিত লোকজন এসে কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। তারপরও আমরা ভোট বর্জন করিনি। শুধুমাত্র একটা কারণ তা হলো জনগণের সামনে তাদের ভোট ডাকাতির এমন সব চিত্র তুলে ধরার জন্য।-বিডি২৪লাইভ