অনুমতিছাড়া কুরআন নিয়ে কথা বললেই জেল-জরিমানা

অনুমতি ছাড়া পবিত্র কুরআনের কোনো অংশ মুখস্ত করানো, ধর্মীয় বিষয়ে কোনো রকম আলোচনা এবং পাঠদান করালে জেল-জরিমানার বিধান রেখে আইন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত মঙ্গলবার এ আইন পাস হয়।

আইনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা, পাঠদান এবং পবিত্র কুরআন মুখস্ত করালে জেল-জরিমানা দুটোই হতে পারে।

এ আইনের ফলে দেশটির ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কেউ অন্য কাউকে ধর্মীয় বিষয়ে নিয়োগ, ধর্মীয় গ্রন্থাগার চালু এবং কোনোখানে দান কিংবা ত্রাণ সংগ্রহ করতে পারবে না।

এ আইন অমান্য করলেই সর্বোচ্চ তিনমাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচহাজার দিরহাম জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আইন প্রণয়নের সময় আমিরাতের মসজিদের ব্যাপারও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

সেখানকার মসজিদের ব্যাপারেও আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কেবল যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরাই মসজিদের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। মসজিদে কর্মরত অবস্থায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংযুক্ত হলে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে, ফতোয়া এবং কুরআন শিক্ষা দিলে বেতন বন্ধ হয়ে যাবে।

সেই সঙ্গে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া তিনমাসের কারাদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া মসজিদে ভিক্ষা করলে পাঁচ হাজার দিরহাম জরিমানা এবং ইমামকে প্রার্থনার জন্য আহ্বান করলেও একই দণ্ড হতে পারে। যদি কোনো ইমাম কারও জন্য দোয়া করে দেন, তাহলে তার বেতন বন্ধ হয়ে যাবে।

এছাড়া সব মসজিদে কর্মরত সকলের বেতন সরকারিভাবে প্রদানের বিধান রাখার ব্যাপারেও কথা উঠেছে। তবে আইন পাসের এ ব্যাপারেও তেমন কিছু উল্লেখ রাখা হয়নি।